নারীর নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীর উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় নারী নিরাপত্তা

আপলোড সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১২:২৪:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১২:২৪:১৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী শুধু সমাজের অংশ নয়, বরং সভ্যতার প্রধান স্থপতি। অথচ আজকের আধুনিক বিশ্বে পদচারণা করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতা ও নানামুখী সহিংসতার শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কীভাবে একটি নির্ভয় পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব, তা নিয়েই তরুণ প্রজন্মের এই জোরালো কণ্ঠস্বর।

​নিরাপদ নারী, উন্নত পৃথিবী

নারী মানবসমাজের প্রাণশক্তি। মা, মেয়ে, বোন কিংবা সহধর্মিণী—প্রতিটি পরিচয়েই সমাজ বিনির্মাণে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নারীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ, একটি ভয়হীন ও সুরক্ষিত পরিবেশেই নারী তার মেধা, মনন ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেন।

নিরাপদ সমাজ পেলে নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতে পারেন, যা একটি শক্তিশালী পরিবার ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারীর প্রতি গভীর সম্মান ও সুরক্ষা প্রদান আমাদের সবার সম্মিলিত এবং নৈতিক দায়িত্ব। নারীর জন্য একটি নিরাপদ জগৎ গড়ে তোলার অর্থই হলো, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল, সুন্দর ও মানবিক পৃথিবী নিশ্চিত করা।

—আবু রাফে উমাইর, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম

সমাজের চোখে বন্দি নারী নিরাপত্তা

নিরাপত্তা মানেই হলো ভয়হীন ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার জন্মগত অধিকার। অথচ বর্তমান সমাজে নারীদের সেই ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। ঘরের বাইরে পা বাড়ালেই অনেক নারীকে অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। জীবন-জীবিকা বা স্বপ্নপূরণের তাগিদে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া নারীরা অনেক সময় কটূক্তি ও অনভিপ্রেত আচরণের শিকার হন। তা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে।

শালীন পোশাকও অনেক ক্ষেত্রে এমন আচরণ থেকে রক্ষা দিতে পারে না। একা পথ চলতে গিয়ে কিছু নারী ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হন। দিন কিংবা রাত—সবসময়ই নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা থেকে যায়। ফলে একা চলাফেরা অনেকের জন্য আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কাগজে-কলমে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবতার ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই শুধু আইনি বিষয় নয়, এটি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত দায়িত্বেরও প্রশ্ন।

—রেশমী আকতার, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম

​নারীর সুরক্ষা ও আইনের শাসন

নারী ও পুরুষ মানব অস্তিত্ব এবং সভ্যতার মূল রূপকার। বিশ্বজুড়ে যখন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে চর্চা চলছে, তখন আমাদের দেশে নারীর নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে। ধর্ষণ, নির্যাতন, যৌতুক ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধ সামাজিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নিজ গৃহÑকোথাও কোথাও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বছরে বিপুলসংখ্যক নারী নির্যাতনের ঘটনা উঠে আসে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি দুঃখজনক চিত্র তুলে ধরে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের আরো কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। প্রশাসন থেকে বিচারব্যবস্থা—সর্বত্র জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে অপরাধীরা শাস্তি এড়াতে না পারে। পাশাপাশি সচেতন সমাজ গড়ে তোলা এবং নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পুরুষ যেন নারীর চলার পথে বাধা না হয়ে, তার নিরাপদ অগ্রযাত্রার সহায়ক শক্তি হয়ে ওঠে—এমন একটি সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনই সময়ের দাবি।

—শেখ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা

​নিরাপদ মাতৃত্ব চাই

জন্মের পর থেকেই একটি মেয়ে শেখে—‘সাবধানে চলবে, সন্ধ্যায় বাইরে যাবে না।’ যেন সুরক্ষার দায় শুধু তার! কিন্তু পথে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা নিজের ঘরেও কি সে নিরাপদ? নারীর এই নিরাপত্তাহীনতা শুধু সহিংসতায় সীমাবদ্ধ নয়; মাতৃত্বের মতো সুন্দর অধ্যায়েও এর বিষণ্ণ ছায়া পড়ে। আজও প্রত্যন্ত গ্রামে সঠিক পরিচর্যার অভাবে অসংখ্য নারী ও নবজাতক অকালে প্রাণ হারায়। এই করুণ মৃত্যু ঠেকাতে সম্মিলিত চেষ্টায় নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিটি গ্রামে দক্ষ ধাত্রী ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। যে সমাজ নারীকে পথে-ঘাটে কিংবা ঘরে, এমনকি মাতৃত্বের মতো স্পর্শকাতর সময়েও সুরক্ষা দিতে পারে না, সেখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নারী আসলে কোথায় নিরাপদ?

—সোমনা আক্তার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার

​নারীর সুরক্ষার জন্য চাই কার্যকর প্রশাসন

নারী সমাজের চালিকাশক্তি। কিন্তু তাদের নিরাপত্তাহীনতা একটি জাতির সামগ্রিক অগ্রগতিকে স্তব্ধ করে দেয়। তাই নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হলো নারী নির্যাতন, সহিংসতা ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে। সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং নারী সহায়তা হটলাইনগুলো আরো আধুনিক ও কার্যকর করা জরুরি। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের দক্ষতা, জবাবদিহি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়েই এমন একটি নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব, যেখানে প্রতিটি নারী ভয়হীন, স্বাধীন এবং পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে।

—মাহজাবীন তাসনীম রুহী, এমসি কলেজ, সিলেট

​প্রগতির পথে সুরক্ষিত নারী

সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে নারীর অবাধ ও নিরাপদ অংশগ্রহণের ওপর। নারী যখন ভয়হীন ও স্বাধীনভাবে চলতে পারে, তখনই তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত হয়। শুধু পথে-ঘাটেই নয়, পরিবার ও কর্মস্থলেও নারীর জন্য একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে একজন নারী শুধু নিজেই সমৃদ্ধ হন না, বরং একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নারী সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; তার মেধা ও শ্রমে সমাজ এগিয়ে যায়। তাই তাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়া আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

মনে রাখতে হবে, নারীর নিরাপত্তা শুধু তার একার অধিকার নয়, এটি সুস্থ সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। নিরাপদ নারী মানেই নিরাপদ সমাজ ও দেশ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]