মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়, ২০ এপ্রিল ২০২৬:
পঞ্চগড় জেলা পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলা পুলিশ মাদক উদ্ধার, নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলসহ চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ০২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় মাইক্রোবাসযোগে প্রবেশ করেছে।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত আনুমানিক ০৪:৩০ ঘটিকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সংলগ্ন পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাস্তার পাশে একটি ট্রাকের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা রঙের পুরাতন নিশান মাইক্রোবাস তল্লাশি করে এর ভেতর থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২ সদস্য—
১। প্রদীপ রায় (৩৮), পিতা-আবু চন্দ্র রায়, সাং-ভাবকী ডাঙ্গাপাড়া, থানা-খানসামা, জেলা-দিনাজপুর
২। মোঃ জহুরুল ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ হযরত আলী, সাং-ভুষীর বন্দর, থানা-চিরিরবন্দর, জেলা-দিনাজপুর
—কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তারা একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরও ৮ সদস্য পঞ্চগড় সদর থানার দশমাইল এলাকায় অবস্থান করছিল।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ ভোর ০৫:০০ ঘটিকা থেকে সকাল ০৭:০০ ঘটিকার মধ্যে অভিযান চালিয়ে আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১। মোঃ নুর ইসলাম পাচকেল (৬০), পিতা-মৃত শিরিল টুডু, সাং-ইসলামবাগ, থানা-পঞ্চগড় সদর, জেলা-পঞ্চগড়
২। মোঃ আঃ সালাম (৫৮), পিতা-মৃত শহিদার রহমান, সাং-অতিরামপুর হাজীপাড়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-রংপুর
৩। মোঃ খায়রুল ইসলাম (৪৫), পিতা-মৃত জহুরুল ইসলাম, সাং-বৈকন্ঠপুর, জেলা-দিনাজপুর
৪। মোঃ বাবুল হোসেন (৫৪), পিতা-মৃত মোবারক আলী, সাং-বেলবাড়ী, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর
৫। মোঃ ফারুক (৩০), পিতা-মৃত আলী হোসেন, সাং-জোলাপাড়া (ঈশ্বরপুর), থানা-কোতয়ালী, জেলা-রংপুর
৬। মোঃ আঃ মান্নান (৪০), পিতা-মাহমুদ আলী, সাং-খলশী কুমুরিয়া, থানা-দৌলতপুর, জেলা-মানিকগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা—শেখমোড়া, ১৭নং রেলঘোষ্ঠি, জনৈক মোঃ দুলাল বিডিআর-এর বাসার ভাড়াটিয়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর
৭। মোঃ আবু সুমন (৩০), পিতা-মোঃ ছকিউল ইসলাম, সাং-দক্ষিন বিষ্ণপুর মাঝাপাড়া, থানা-বদরগঞ্জ, জেলা-রংপুর
৮। মোঃ মমিন ইসলাম (৩৮), পিতা-মোঃ আব্দুল, সাং-দক্ষিন নসরতপুর, থানা-চিরিরবন্দর, জেলা-দিনাজপুর
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা যায়, তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে ডাকাতির সরঞ্জামাদি সাতমেড়া ইউনিয়নের চেকরমারী ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন একটি পাথর গ্যারেজ অফিসের সামনে আম গাছের নিচে বালুর ঢিবির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে। পরে আসামিদের উপস্থিতিতে উক্ত স্থান খনন করে উদ্ধার করা হয়—
বড় ধারালো ছুরি ১টি
মাঝারি ছুরি ১টি
কাটার মেশিন ২টি
সিরিঞ্জ ২টি
প্লাস ১টি
কাটার ব্লেড ১টি
হ্যাক্স রড ২টি
হ্যাক্স ব্লেড (হাতল ছাড়া) ১টি
হ্যাক্স ব্লেড ১৩টি
লোহার তৈরি তারকাটা উঠানোর যন্ত্র ১টি
নাট খোলার রেঞ্চ ১টি
বিভিন্ন সাইজের নাটের গুটি ৬টি
পলিথিন (৫০ গ্রাম)
রশি (৫০০ গ্রাম)
টর্চলাইট ২টি
মোবাইল ফোন ৭টি
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা পূর্বেও পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল।
এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, জেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।