মশিউর রহমান রাসেলঃ
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হয়।
রবিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় ঝালকাঠি শহরের আব্দুল ওহাব গাজী শিশু বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাম-রুবেলার তৃতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও দুটি ক্ষেত্রে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত—পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি এবং ইমিউনাইজেশন কার্যক্রম। লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম নির্মূল করা। তবে নির্ধারিত সময়ের টিকাদান রাউন্ড বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং এর ফলেই বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের নিচে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বর্তমান সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ ইমার্জেন্সি রাউন্ড চালু করা হয়েছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত আওতায় আনা যায়।
উপদেষ্টা বলেন, একটি শিশুও যদি হামে মারা যায়, তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারো নেই। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো জাতির জন্য লজ্জার একটি সম্মিলিত ব্যর্থতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণ—সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, টিকা সংগ্রহে ধীরগতি, সময়মতো ইমিউনাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব এর পেছনে বড় কারণ। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে, যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দ্রুত টিকা সরবরাহ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানো, আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, বাংলাদেশ অতীতেও বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে এর জন্য সবচেয়ে জরুরি সবার দায়িত্বশীল আচরণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ০.৬২, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এটাকে আরও উন্নত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির'র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা উপ- পরিচালক তাপস কুমার শীল, সদর হাসপাতাল তত্বাবধায়ক মো. ইফতেখার আহমেদ, জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. মো: সৈয়দ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ ও আব্দুল ওহাব গাজী শিশু বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: শহিদ ইমাম পাশা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হয়।
রবিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় ঝালকাঠি শহরের আব্দুল ওহাব গাজী শিশু বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাম-রুবেলার তৃতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও দুটি ক্ষেত্রে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত—পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি এবং ইমিউনাইজেশন কার্যক্রম। লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম নির্মূল করা। তবে নির্ধারিত সময়ের টিকাদান রাউন্ড বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং এর ফলেই বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের নিচে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বর্তমান সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ ইমার্জেন্সি রাউন্ড চালু করা হয়েছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত আওতায় আনা যায়।
উপদেষ্টা বলেন, একটি শিশুও যদি হামে মারা যায়, তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারো নেই। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো জাতির জন্য লজ্জার একটি সম্মিলিত ব্যর্থতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণ—সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, টিকা সংগ্রহে ধীরগতি, সময়মতো ইমিউনাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব এর পেছনে বড় কারণ। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে, যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দ্রুত টিকা সরবরাহ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানো, আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, বাংলাদেশ অতীতেও বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে এর জন্য সবচেয়ে জরুরি সবার দায়িত্বশীল আচরণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ০.৬২, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এটাকে আরও উন্নত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির'র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা উপ- পরিচালক তাপস কুমার শীল, সদর হাসপাতাল তত্বাবধায়ক মো. ইফতেখার আহমেদ, জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. মো: সৈয়দ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ ও আব্দুল ওহাব গাজী শিশু বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: শহিদ ইমাম পাশা।