নিজস্ব প্রতিবেদক,
১৭ এপ্রিল ২০২৬: বীমা খাতের আলোচিত প্রতিষ্ঠান হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। হাইকোর্টের একাধিক রায় স্পষ্টভাবে অমান্য করে বহিষ্কৃত শাহাদাত ও বহিষ্কৃত জাকির হোসেন সরকার অবৈধভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিএমডি) চেম্বার দখল করে রেখেছেন। এছাড়া প্রশ্নবিদ্ধ বিল অনুমোদন, দখলদারদের দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ দখল ও বোর্ডের নীরবতায় প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়েছে।
দুই বোর্ডই ব্যর্থ, কেন?
গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় মেয়াদের হোমল্যান্ড লাইফের বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই বোর্ডও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগের প্রথম বোর্ড তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই আদালতের কাছে পদত্যাগ করে। যে উদ্দেশ্যে পরপর দুটি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, তার কোনোটি সফল হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে অভিযোগ, হাইকোর্টের রায়কে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে বহিষ্কৃত শাহাদাত ও জাকির হোসেন সরকার প্রতিনিয়ত বোর্ডের কার্যক্রমে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করছেন এবং কোম্পানির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
বোর্ড চেয়ারম্যানের বিতর্কিত ভূমিকা
দ্বিতীয় মেয়াদের বোর্ড গঠনের সময় হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্টভাবে বহিষ্কৃত শাহাদাত ও জাকির হোসেনকে সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বোর্ড গঠনের পরপরই বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ জিয়াউল হক প্রথম চিঠি দেন তাদের নিয়েই বৈঠক করার জন্য। পরে উন্নয়ন সভার নামে বোর্ডরুমে তাদের নিয়ে বৈঠক করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি সম্পূর্ণ জানার পরও কেন তাদের ডেকে অফিস মিটিং করা হয়েছে, এবং তাদের সার্বক্ষণিক অফিসে উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ নিয়ে বারবার অভিযোগ থাকার পরও তারা নীরব থেকেছেন। এই অন্যায় কার্যক্রম মেনে নিয়েছেন, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অথচ বোর্ডের প্রথম দায়িত্ব ছিল কোম্পানির সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা। সর্বশেষ হাইকোর্টের গঠিত বোর্ডের এসব বিতর্কিত কাজের বিষয়ে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিঠির মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন।
মেয়াদের শেষ দিনে ৮৬ লাখ টাকার বিল অনুমোদন
পুরো বোর্ডের কার্যক্রমকালে যত টাকার বিল অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি—প্রায় ৮৬ লাখ টাকার বিভিন্ন বিল অনুমোদন করা হয় মেয়াদের শেষ কার্যদিবসেই। এর মধ্যে এমন বিল রয়েছে যা ক্যাশ চেকের মাধ্যমে তোলা হয়েছে, যা আইডিআরএ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া গ্রাহকদের চেক প্রদানের নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ শাখা ব্যবস্থাপক বলেছেন—কীভাবে গ্রাহকদের এই টাকা দেয়া হয়েছে, তা তারা জানেন না। তাদের কোনো গ্রাহকই এই টাকার বিপরীতে কোনো চেক পাননি। এই বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দুর্নীতিবাজ ও বহিষ্কৃতদের দখলে প্রধান কার্যালয়
প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিভাগের প্রধান বা ইনচার্জ নেই। যারা নিজেদের ইনচার্জ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন সময় দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত অথবা সন্ত্রাসী দখলদার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দখলদারদের দিয়ে কোনোভাবেই কোম্পানি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। বিষয়টি সর্বশেষ বোর্ডকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের কোম্পানির ফাইন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
কোম্পানির বৈধ এমডি ও ডিএমডির অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জরা নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না। বহিষ্কৃত শাহাদাত ও জাকির হোসেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও পুলিশ হয়রানি দেখিয়ে চলেছেন। অথচ এই শাহাদাত ও জাকির হোসেনকে কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আগেই কোম্পানির চাকরির বিধি-বিধান মেনে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষ দখল ও আইডিআরএর নীরবতা
আমাদের পর্যবেক্ষক দল হেড অফিস পরিদর্শনে গিয়ে শাহাদাত ও জাকির হোসেন সরকারকে অফিসে উপস্থিত পান। এছাড়া পূর্বে বহিষ্কৃত সাইদুল ইসলাম কোম্পানি সচিবের রুমে এবং দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত শওকত হোসেন সিএফও’র রুমে অবস্থান করছেন।
জনগণের অর্থে পরিচালিত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিবাজদের কুক্ষিগত হয়ে গেলেও বীমা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইডিআরএ) দেখেও না দেখার ভান করছে। অথচ সর্বশেষ রায়ে আইডিআরএ-কেও বর্তমান বোর্ডকে সহযোগিতা করার কথা বলা ছিল। কিন্তু আইডিআরএ কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
এ বিষয়ে সর্বশেষ গঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ জিয়াউল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত জাকির হোসেন সরকার ও সাহাদাত এর বক্তব্য নিতে বারবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। হাইকোর্টের রায়ের দিকনির্দেশনার বাইরে গিয়ে বর্তমান বোর্ড যা করেছে, তা আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল এবং কোম্পানিকে ধ্বংস করার পায়তারা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৭ এপ্রিল ২০২৬: বীমা খাতের আলোচিত প্রতিষ্ঠান হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। হাইকোর্টের একাধিক রায় স্পষ্টভাবে অমান্য করে বহিষ্কৃত শাহাদাত ও বহিষ্কৃত জাকির হোসেন সরকার অবৈধভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিএমডি) চেম্বার দখল করে রেখেছেন। এছাড়া প্রশ্নবিদ্ধ বিল অনুমোদন, দখলদারদের দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ দখল ও বোর্ডের নীরবতায় প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়েছে।
দুই বোর্ডই ব্যর্থ, কেন?
গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় মেয়াদের হোমল্যান্ড লাইফের বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই বোর্ডও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগের প্রথম বোর্ড তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই আদালতের কাছে পদত্যাগ করে। যে উদ্দেশ্যে পরপর দুটি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, তার কোনোটি সফল হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে অভিযোগ, হাইকোর্টের রায়কে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে বহিষ্কৃত শাহাদাত ও জাকির হোসেন সরকার প্রতিনিয়ত বোর্ডের কার্যক্রমে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করছেন এবং কোম্পানির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
বোর্ড চেয়ারম্যানের বিতর্কিত ভূমিকা
দ্বিতীয় মেয়াদের বোর্ড গঠনের সময় হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্টভাবে বহিষ্কৃত শাহাদাত ও জাকির হোসেনকে সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বোর্ড গঠনের পরপরই বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ জিয়াউল হক প্রথম চিঠি দেন তাদের নিয়েই বৈঠক করার জন্য। পরে উন্নয়ন সভার নামে বোর্ডরুমে তাদের নিয়ে বৈঠক করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি সম্পূর্ণ জানার পরও কেন তাদের ডেকে অফিস মিটিং করা হয়েছে, এবং তাদের সার্বক্ষণিক অফিসে উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ নিয়ে বারবার অভিযোগ থাকার পরও তারা নীরব থেকেছেন। এই অন্যায় কার্যক্রম মেনে নিয়েছেন, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অথচ বোর্ডের প্রথম দায়িত্ব ছিল কোম্পানির সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা। সর্বশেষ হাইকোর্টের গঠিত বোর্ডের এসব বিতর্কিত কাজের বিষয়ে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিঠির মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন।
মেয়াদের শেষ দিনে ৮৬ লাখ টাকার বিল অনুমোদন
পুরো বোর্ডের কার্যক্রমকালে যত টাকার বিল অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি—প্রায় ৮৬ লাখ টাকার বিভিন্ন বিল অনুমোদন করা হয় মেয়াদের শেষ কার্যদিবসেই। এর মধ্যে এমন বিল রয়েছে যা ক্যাশ চেকের মাধ্যমে তোলা হয়েছে, যা আইডিআরএ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া গ্রাহকদের চেক প্রদানের নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ শাখা ব্যবস্থাপক বলেছেন—কীভাবে গ্রাহকদের এই টাকা দেয়া হয়েছে, তা তারা জানেন না। তাদের কোনো গ্রাহকই এই টাকার বিপরীতে কোনো চেক পাননি। এই বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দুর্নীতিবাজ ও বহিষ্কৃতদের দখলে প্রধান কার্যালয়
প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিভাগের প্রধান বা ইনচার্জ নেই। যারা নিজেদের ইনচার্জ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন সময় দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত অথবা সন্ত্রাসী দখলদার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দখলদারদের দিয়ে কোনোভাবেই কোম্পানি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। বিষয়টি সর্বশেষ বোর্ডকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের কোম্পানির ফাইন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
কোম্পানির বৈধ এমডি ও ডিএমডির অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জরা নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না। বহিষ্কৃত শাহাদাত ও জাকির হোসেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও পুলিশ হয়রানি দেখিয়ে চলেছেন। অথচ এই শাহাদাত ও জাকির হোসেনকে কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আগেই কোম্পানির চাকরির বিধি-বিধান মেনে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষ দখল ও আইডিআরএর নীরবতা
আমাদের পর্যবেক্ষক দল হেড অফিস পরিদর্শনে গিয়ে শাহাদাত ও জাকির হোসেন সরকারকে অফিসে উপস্থিত পান। এছাড়া পূর্বে বহিষ্কৃত সাইদুল ইসলাম কোম্পানি সচিবের রুমে এবং দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত শওকত হোসেন সিএফও’র রুমে অবস্থান করছেন।
জনগণের অর্থে পরিচালিত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিবাজদের কুক্ষিগত হয়ে গেলেও বীমা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইডিআরএ) দেখেও না দেখার ভান করছে। অথচ সর্বশেষ রায়ে আইডিআরএ-কেও বর্তমান বোর্ডকে সহযোগিতা করার কথা বলা ছিল। কিন্তু আইডিআরএ কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
এ বিষয়ে সর্বশেষ গঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ জিয়াউল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত জাকির হোসেন সরকার ও সাহাদাত এর বক্তব্য নিতে বারবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। হাইকোর্টের রায়ের দিকনির্দেশনার বাইরে গিয়ে বর্তমান বোর্ড যা করেছে, তা আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল এবং কোম্পানিকে ধ্বংস করার পায়তারা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।