চট্টগ্রামে পাম্পগুলোতে চালকদের দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি পেতে হট্টগোল

আপলোড সময় : ১৭-০৪-২০২৬ ০৬:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৪-২০২৬ ০৬:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে চলমান জ্বালানি সংকট সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও প্রকট আকার ধারণ করেছে। নগরের অনেক পেট্রোল পাম্প শুকিয়ে যাওয়াতে— খোলা থাকা পাম্পগুলোতে প্রতিদিনই চালকদের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। কোথাও মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ যানবাহনের দীর্ঘ সারি এক কিলোমিটারব্যাপীও বিস্তৃত হচ্ছে। অনেক চালককে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও তেল পেতে হাতাহাতি ও হট্টোগোলের ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল পাম্প আছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন। প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরে পেট্রোল পাম্প আছে ৪৬টি।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বেশির ভাগ পেট্রোল পাম্পে মিলছে না অকটেন। যে কয়টি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে মোটর সাইকেলের দীর্ঘ লাইন, প্রায় সব পাম্প তেল দিচ্ছে ‘রেশনিং’ করে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পাম্প বন্ধ থাকলেও তেলের আশায় যানবাহনের সারি কমছে না। রেশনিংয়ের কারণে প্রতিটি যানবাহনকে সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে সড়কে যানজট তৈরি হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র জ্যাম দেখা দিচ্ছে। ডিপো থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় নগরের কাতালগঞ্জ এলাকায় খান ব্রাদার্স পাম্প, নতুন পাড়ার বিআরটিসি পেট্রোল পাম্প, বালুছড়ার শিউলি পেট্রোল এবং অক্সিজেন এলাকার ওয়াজেদ আলী সন্স, বড়দিঘির পাড়ের ইসলাম ফিলিং স্টেশনও সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। একইভাবে তেল মিলছে না নগরের দামপাড়ার পুলিশ লাইন্স পাম্প, লালখান বাজারের এস কে কাহম, সিআরবি মোড়ের ফোর স্টার পাম্পেও।

খুলশী আমিনুল্লাহ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আমির উদ্দিন জানান, গত মাস ধরে ডিপো থেকে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; শুধু তাদেরকে রেশনিংয়ের ভিত্তিতে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে।

তবে নগরের গণি বেকারি এলাকার কিউসি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় সেখানে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পাম্পের এক বিক্রয়কর্মী জানান, এখানে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়। অকটেন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক চালক জিয়া উদ্দিন বলেন, বন্ধের দিনেও শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে তেল পাননি। পরে এখানে এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। তার ভাষায়, এই পাম্পের তেলের মান ভালো, তাই কষ্ট হলেও এখানেই দাঁড়িয়ে আছি।

পণ্যবাহী গাড়িচালক কাশেম বলেন, তেল না পেলে পরিবহন চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। এতে পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতাও সংকটকে বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে সীমিত সরবরাহে চাহিদা বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]