বিশ্বের বৃহত্তম পার্লামেন্ট হচ্ছে ভারতে, মোদি নাকি নারীদের স্বার্থে

আপলোড সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০১:২৮:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০১:২৮:৪৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নিকক্ষ লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা।
 
ভারতের সংসদ সদস্যদের কাছে তিনটি খসড়া বিল আসে মঙ্গলবার এবং সেই বিষয়ে আলোচনার জন্য লোকসভায় বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হয়। আজ ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে সেই অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, লোকসভার সদস্য সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হবে, যার ফলে লোকসভা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নিম্নকক্ষে পরিণত হবে। এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি একটি বৃহত্তর প্যাকেজের অংশ, যার মধ্যে সংসদের এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমাদের আইনসভায় নারীদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরও শক্তিশালী হবে।’

নয়া দিল্লিভিত্তিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘উইমেন পাওয়ার কানেক্ট’-এর প্রধান রঞ্জনা কুমারী বলেছেন, ‘দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো। এটা অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সংসদে মাত্র ১৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এই পদক্ষেপ ক্ষমতার প্রকৃতি বদলে দেবে।’

তবে সমালোচকরা বলছেন, আসন পুনর্নির্ধারণে সুবিধা পাবে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তাদের যুক্তি, মোদির এই প্রস্তাবের ফলে উত্তরের দরিদ্র ও অধিক জনবহুল রাজ্যগুলোতে সুবিধা পাবে বিজেপি, কারণ সেখানে তাদের দলের নির্বাচনী আধিপত্য রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে কম আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে, যেখানে বিজেপির ফল ঐতিহাসিকভাবেই খারাপ।

এই সংশোধনীটি পাস করার জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। বিরোধী জোটের সদস্যরা বুধবার বলেছিলেন, তারা নারী কোটা বাস্তবায়নকে সমর্থন করলেও, আসন পুনর্নির্ধারণের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ।
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ইরানে ৪ জন গ্রেপ্তার
দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এই সপ্তাহে চেন্নাই থেকে বলেন, ‘যদি এমন কিছু করা হয় যাতে উত্তরের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট নয়, তবে তামিলনাড়ু জেগে উঠবে। তামিলনাড়ু পূর্ণ শক্তিতে তার প্রতিবাদ জানাবে।’ এই বিলটি সম্পর্কে দিল্লিভিত্তিক লেখক নীরজা চৌধুরী বলেন, ‘এটি নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয় না হয়ে উত্তর-দক্ষিণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।’

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি আদমশুমারির পর নিম্নকক্ষে নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ ১৯৭৩ সালে আসন পুনর্বণ্টন করা হয়েছিল, যখন এর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪৮ মিলিয়ন, যা এখনকার ১ দশমিক ৪ বিলিয়নের তুলনায় অনেক কম। বেঙ্গালুরুভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখিকা সুগত শ্রীনিবাসরাজু বলেন, ‘সীমানা পুনর্বিন্যাস সবসময়ই প্রত্যাশিত ছিল এবং স্বাধীনতার পর থেকে এটি কয়েকবার হয়েছে, এটি কোনো নতুন ধারণা নয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি প্রয়োজনীয় ছিল।’

২০২৩ সালে, ভারতীয় আইনপ্রণেতারা একটি যুগান্তকারী আইন পাস করেন, ১৯৯৬ সালে যা প্রথমবার উত্থাপন করা হয়েছিল। এই আইন অনুযায়ী নিম্নকক্ষ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হয়। এই আইনটি নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা প্রবর্তন করলেও, এর বাস্তবায়নকে ভবিষ্যতের আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হওয়ার পরেই নিশ্চিত করা হবে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। বিলটিতে একটি সংশোধনী আনার ফলে এর ওপর আবার ভোট দিতে হবে।

গত মাসে শুরু হওয়া আদমশুমারির ফলাফল ২০২৮ সালের আগেই পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত সরকার ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই নারী প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আইনটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাইছে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার যুক্তি দিয়েছেন যে, ‘সরকার এখন যে প্রস্তাব করছে তার সঙ্গে নারী আসন সংরক্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সংশোধনীটি হলো সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের একটি প্রচেষ্টা।’

কেরালার বিরোধী বিধায়ক কে সি ভেনুগোপাল বলেন ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ একটি রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দেয়। ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করে সেইসব রাজ্যকে শাস্তি দেওয়া হবে যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।’ তবে মোদির সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর দাবি, কোনো রাজ্যেরই ক্ষতি হবে না।















 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]