শখের কাজ করেই সংসার চালায় ওরা

আপলোড সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন
 

সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ, সিলেট, ক্রাইম রিপোর্টার ::


ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া শীতল পাটি শিল্পটির কথা বারবার উঠে এসেছে ইতিহাসের পাতায়। সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া, চাঁনপুর, আতাসন, শ্রীনাথপুর, গৌরীপুর, মহিষাশি, লোহামোড়া প্রভৃতি গ্রামের লোকজন শীতল পাটি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাটি শিল্প ছিল পরিবারগুলোর আয়ের একমাত্র উৎস। কিন্তু শ্রমও বাজারে মূল্যের প্রচণ্ড ব্যবধানে পাটি কারিগরদের বিমুখ করলেও এ পেশার সঙ্গে এখনো জড়িয়ে আছেন পাটি শিল্পীরা। বাড়িতে নতুন জামাই কিংবা পরম কাঙ্ক্ষিত অতিথি এলে শীতল পাটি বিছিয়ে বসতে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। কেউ অপারগ হলে লজ্জায় পড়তে হতো। শীতল পাটি এক সময় হয়ে ওঠে এদতাঞ্চলের মানুষের সভ্যতার মাপকাঠি।
 
কাশিপুর গ্রামের সুন্দরী বিবি। সুন্দরী বিবি 'বালাগঞ্জ শীতল পাটি উৎপাদন বিপণন ও বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যদের পাটি বুনন শেখান। এ প্রসঙ্গে সুন্দরী বিবি (৬৬) বলেন, আমার বাবার বাড়িও এই এলাকায়। শীতল পাটি বুনন শখের কাজ। ছোটবেলায় মা-চাচিদের কাছে হরেক রকমের পাটি বুনন শিখেছি। এর মধ্যে পয়সা, শাপলা, সোনাইমুড়ি, জয় পাটি, টিক্কা, সিকি, লাল গালিচা, আধুলি ও মিহি প্রভৃতি পাটি রয়েছে। এ পাটিগুলোর বুনন শিখতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, সময়ও লেগেছে অনেক। যারা এ ধরনের পাটি বুনন শিখতে আগ্রহী তাদের এখনো আমি শেখাচ্ছি। মিহি পাটি এমনভাবে বুনন করতে হয়- যেটির ওপর দিয়ে পিঁপড়া পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারত না। নকশা করে একটি পাটি বুনতে মাসখানেক কিংবা আরও বেশি সময় লাগত।
 
শীত নামলেই সকালের নরম রোদে শীতল পাটি বুননের ধুম পড়তো ঘরে ঘরে। আমরা দলবেঁধে বসে এই শীতল পাটি বুনতাম। গ্রামের লোকজন পাটি বিছিয়ে শীতের সকালে রোদ পোহাতেন। এক সময় প্রায় প্রতিটি বাড়ির বউ-ঝিরা শীতল পাটির বুনন জানতেন। নিজেদের প্রয়োজনে বাড়িতে পাটি বুনন হতো। সে সময়ে একটি পাটি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতো। তাতেই বাজার-সওদা করে সংসার চলত। আগের মতো এখন কম সময়ে পাটি বুনে কম টাকায় বিক্রি করা খুবই কঠিন ব্যাপার। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি। দেশের অনেক শিল্পে আধুনিকতার ছাপ পড়লেও এ শিল্পটি এখনো আগের মতোই আছে। এখন ঘরে ঘরে শীতল পাটি বুনন হয় না। তবে প্রচুর চাহিদা আছে।
 
হুসনারা বেগম 'বালাগঞ্জ শীতল পাটি উৎপাদন বিপণন ও বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতির সদস্য। হুসনারা বেগমের মতে (৩৫), পাটি বুননের মধ্যে একটা শৈল্পিক সত্ত্বা কাজ করে। বড়দের কাজ দেখে দেখে শীতল পাটি বুনন শিখেছি। শীতল পাটির উপকরণ মুর্তা নামক এক জাতের গুল্ম।

 প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মূর্তা বন ছিল। জঙ্গল থেকে মুর্তা সংগ্রহ করে বিশেষভাবে 'বেত' বা আঁশ তৈরি করা হয়। বেতে হরেক রকমের রং মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে বিশেষভাবে বোনা হয় শীতল পাটি। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনে মুর্তা উজাড় করে ফেলার কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে ক্রমেই মুর্তা কিংবা মুর্তার বাগান হারিয়ে যেতে বসেছে। এমনও দিন ছিল বিভিন্ন খালবিল ও লোকালয়ের পাশে প্রচুর মুর্তা পাওয়া যেত। এখন সেভাবে পাওয়া যায় না। মুর্তা কিনে আনতে যে টাকা খরচ হয় সব কিছু বাদ দিয়ে নিট মুনাফা আসে এর চেয়ে কম। মূর্তা বেতের চাষ না হলে এ শিল্প কাঁচামালের অভাবে হারিয়ে যাবে।

 বাজারে একটি পাটির মূল্য দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। মুর্তা সংকট ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পাটির কারিগররা বেকার হয়ে পড়েছেন। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারিভাবে যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে। 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]