​মাধবপুর মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অসহায় মায়ের কান্না

আপলোড সময় : ১২-০৪-২০২৬ ১১:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৪-২০২৬ ১১:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন

অজিত দাস, মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৩নং বহরা ইউনিয়নের মেড়াশানী গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিজের সন্তানের নির্যাতনে আজ অসহায় হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা মা সবিতা রানী দেব। যে ছেলেকে নিজের না খেয়ে বড় করেছেন, সেই ছেলেই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবিতা রানী দেবের ছেলে রুবেল দেব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার প্রভাবে তার আচরণ দিন দিন হিংস্র হয়ে উঠেছে। প্রায়ই তিনি মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান, যা এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদকের টাকার জোগান দিতে রুবেল দেব বাড়ির আসবাবপত্র একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমনকি বসতভিটার গাছপালাও রক্ষা পায়নি। এতে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তার নির্যাতনের মুখে ইতোমধ্যে ঘর ছেড়েছেন স্ত্রীও। এখন নিজের মাকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সবিতা রানী দেব বলেন, আমি নিজের খাবার না খেয়ে ছেলেকে বড় করেছি। এখন সে প্রতিদিন আমাকে মারধর করে। ঘরের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এখন আমাকেই বাড়ি থেকে তাড়াতে চায়। আমি কোথায় যাব তিনি আরও জানান, গ্রামের বিভিন্ন মহলে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি শুধু আশ্বাসই মিলেছে বারবার। স্থানীয় সমাজকর্মী মনিরুল ইসলাম মন্টি বলেন, মাধবপুরে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে। সবিতা রানী দেবের ঘটনা তারই একটি করুণ উদাহরণ।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তিতন মিয়া জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, “রুবেল দেবকে দ্রুত কাউন্সেলিংয়ের আওতায় এনে সংশোধন করা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বহরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]