অজিত দাস, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো দ্বিতল ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেখানে এখনও চলছে চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রড বের হয়ে আছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ায় ওয়ার্ড ও শয্যা ভিজে যায়, এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারীরা। সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে উন্নীত করে ৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হলেও অবকাঠামোগত সংকট এখনও রয়ে গেছে। নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ হলেও সেখানে সীমিত সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পুরোনো ভবনের দুটি ওয়ার্ডে এখনো ৩১টি শয্যা ব্যবহার করা হচ্ছে এর মধ্যে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ১৯টি এবং পুরুষ ওয়ার্ডে ১২টি শয্যা রয়েছে।
জরুরি বিভাগও পুরোনো ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিয়াজী তানভীর ইয়ামিন বলেন, ঝুঁকি জেনেও তারা রোগীদের সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগের রোগী শয্যার ঠিক ওপরেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। রোগী ও স্বজনরা জানান, স্যাঁতসেঁতে, অপরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের। একজন নার্স বলেন, ঝুঁকি জেনেও আমরা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর জানান।
ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে বলেও জানান তিনি। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে এক কর্মচারীকে হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, যা পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ভবন সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।