সবচেয়ে বড় শক্তিশালী পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করছে চীন

আপলোড সময় : ১২-০৪-২০২৬ ১২:০৯:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৪-২০২৬ ১২:০৯:১৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজেদের নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। দ্বৈতকাজে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে কাজে নৌবহরকে দ্রুত বৃদ্ধি করছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি। উন্নত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সহায়তায় তারা নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন যুক্ত করছে বহরে।

চীনের সাবমেরিন বহর সক্ষমতা এবং সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে ছিল। তাদের বহরে বেশিরভাগই ছিল ডিজেল-ইলেকট্রিক কৌশলগত সাবমেরিন। তবে এখন সাবমেরিন উৎপাদনে বেইজিং ওয়াশিংটনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে নেভাল নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে চীনের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক সাবমেরিন ‘টাইপ–০৯৫’-এর একটি ঝলক দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে টাইপ ০৯৫ নামে পরিচিত এই সাবমেরিন চীনের আগের প্রজন্মের সাবমেরিন, বিশেষত টাইপ ০৯৩বি এবং টাইপ ০৯৪-এর একটি উন্নত সংস্করণ।

যদিও এর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, টর্পেডো বিন্যাস ও সোনার সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত পরিসরে সামনে এসেছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পানির নিচে আধিপত্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

উপগ্রহচিত্র অনুযায়ী, এই সাবমেরিনটির আকার বড় প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং এর অভ্যন্তরীণ ধারণক্ষমতা বেশি। এর স্থানচ্যুতি প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টনের মধ্যে হতে পারে, যা এটিকে চীনের বহরের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনে পরিণত করতে পারে।

যদিও সাবমেরিনটির গঠন সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলো থেকে বোঝা যায়, টাইপ ০৯৫ পিএলএএন পানির নিচের সক্ষমতা উন্নত করবে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই সাবমেরিনে উন্নত হাইড্রোডাইনামিক নকশা, উন্নত শব্দনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অপেক্ষাকৃত নীরব প্রপালশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা শত্রুর শনাক্তকরণ এড়াতে সহায়ক হবে। এতে পাম্প-জেট প্রপেলার, শব্দ প্রতিরোধী আবরণ এবং উন্নত ইঞ্জিন কম্পন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি থাকতে পারে।

এতে সম্ভবত উন্নত অ্যাকোস্টিক প্রযুক্তি, যেমন- সোনারকে বোকা বানানো অ্যানিকোয়িক টাইলস এবং উন্নত ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আইসোলেশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকায় কিছু বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, ০৯৫ বেইজিংয়ের কোলাহলপূর্ণ সাবমেরিনের সমস্যা কাটিয়ে উঠবে। এছাড়া সাবমেরিনটিতে এক্স-আকৃতির রাডার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পানির নিচে গতিশীলতা বাড়াবে। এতে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর থাকতে পারে, যা দীর্ঘ সময় পানির নিচে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে।

অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, এতে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার সম্ভব। এই ব্যবস্থাটি বেইজিংয়ের নতুন ওয়াইজে-১৯ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র অথবা জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ওয়াইজে-২০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম, কিন্তু বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাই-প্যাক নামে পরিচিত একটি অস্ত্র ব্যবস্থা, যেখানে একটি টিউবের মধ্যে তিনটি উৎক্ষেপণ সেল থাকে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, টাইপ ০৯৫-এ আটটি টর্পেডো টিউব থাকবে, যার মধ্যে চারটি জাহাজের সামনের অংশের (বো) উভয় পাশে বসানো থাকবে, যা সম্ভবত একটি বড় সোনার সিস্টেমের জন্য জায়গা তৈরি করবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]