নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৫ স্থলমাইনসহ সরঞ্জাম উদ্ধার

আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০১:১২:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০১:১২:২৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের কাছের পার্বত্য উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতার চেষ্টাকালে ৫টি স্থলমাইন ও নানা ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বিজিবি। সীমান্তের টারগুপাড়া সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন শূন্য লাইনের কাছাকাছি ছায়াপাড়ার ৫৩ ও ৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি এলাকা থেকে ওই সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীনস্থ টারগুপাড়া বিওপির টহলদল ০৯ এপ্রিল বেলা দুইটা ১৫ মিনিটের দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাইন ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

বিজিবি বলছে, এই অভিযানে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক এবং সিভিল পোশাক উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির রামু সেক্টর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ১১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়েজুল কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সম্ভাব্য মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অননুমোদিত প্রবেশ প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য বিজিবি সদর দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।

বিজিবির ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানকালে বিজিবি সদস্যরা ৪-৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চলাচল করতে দেখতে পায় এবং তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত কয়েকটি ব্যাগ ফেলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনসহ অন্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে একইদিন বেলা ১২টার দিকে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ বাইশফাঁড়ি বিওপির একটি টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৩৭/২ থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমবাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। ওই সময় মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ক্ষতিকারক দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ৩ কেজি দাহ্য পদার্থ (পাউডার), ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় ও ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা দাহ্য পদার্থগুলো পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

এমন প্রেক্ষাপটে বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা, আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তে যে কোনো নাশকতা প্রতিরোধ, দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

১১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়েজুল কবির বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]