নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের বাক-প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩
রংপুরের বাক-প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩
'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর,যৌতুক, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম তার স্ত্রী । ভিকটিম একজন বাক-প্রতিবন্ধী হলেও তিনি আকার ইঙ্গিতে সবকিছু বোঝাতে পারেন। গত ৩১/০৭/২০২৫ ইং তারিখে বাদী তার বাক-প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে বাড়িতে একা রেখে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে যান। একই তারিখ বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় বাদীর মেয়ে তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসামি নিফুল ভিকটিমকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। সংবাদ পেয়ে বাদী তার বাড়িতে আসলে আসামি নিফুল ভিকটিমকে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাদীর বসতবাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ বলে ভিকটিম আকার ইঙ্গিতে জানান। পরবর্তীতে, ৩১/০৭/২০২৫ ইং তারিখে ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানায় নারী ও শিশু নির্য়াতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৭৯।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এবং সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৯/০৪/২০২৬ তারিখ ভোর ০৪.১০ ঘটিকার সময় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানাধীন কঞ্চিপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার আলোচিত বাক-প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ মামলার প্রধান পলাতক আসামি মোঃ নিফুল মিয়া (৪২), পিতা-মৃত আবুল হোসেন, সাং-ইমাদপুর পশ্চিমপাড়া , ১৭ নং ইমাদপুর ইউপি, থানা-মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি,মাদক, চোরাকারবারীসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।