​সীমান্তঘেঁষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা: জুড়ীতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শঙ্কা, বাতিল হলো গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৯:৩৩:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৯:৩৩:০৬ অপরাহ্ন

এস  এম. জালাল উদ্দীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ও ভেন্যু নির্ধারণকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই কেন্দ্র নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে, যা নিয়মবহির্ভূত বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা।

এবারের কেন্দ্র বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সীমান্তঘেঁষা দুর্গম এলাকায় কেন্দ্র নির্ধারণ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু বাতিলের বিষয়টি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত রাঘনা বটুলী উচ্চ বিদ্যালয়কে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্রের অধীনে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলতলা বশির উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুলতলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে ফুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকার কাছাকাছি ভেন্যু না দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের সীমান্তবর্তী রাঘনা বটুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এতে করে দুর্গম এলাকায় যাতায়াত সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিয়মিত যানবাহনের অভাবে অনেককে রিজার্ভ বা ব্যক্তিগত পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

শুধু যাতায়াত নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহন নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অতীতে দেরিতে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর অভিযোগ থাকায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট পর প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর ঘটনায় লিখিত অভিযোগও হয়েছিল।

এদিকে ফুলতলা বশির উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়কে স্বতন্ত্র কেন্দ্র ঘোষণা করায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে। গত বছর বিদ্যালয়টি ভেন্যু হিসেবে সক্রিয় থাকলেও এবার তা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অনেকের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে। সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ এবং বাস সার্ভিসও চালু রয়েছে।

সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার জানান, তাদের বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও পরীক্ষার উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। কিন্তু দূরবর্তী কেন্দ্রে স্থানান্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয়টিকে অন্তত ভেন্যু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

মক্তদির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসহাক আলী জানান, তিনি তার বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করেছিলেন। প্রথমে তা বাতিল হলেও পরে ভেন্যু হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জুড়ীর একাডেমিক সুপারভাইজার তাহমিনা চৌধুরী বলেন, “কেন্দ্র নির্ধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকেই করা হয়েছে, আমাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল না।”

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে কেন্দ্র ও ভেন্যু পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]