কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শ্রেণীর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০১:০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০১:০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
 
 
 
কাউখালী প্রতিনিধি: 
 
পিরোজপুরের কাউখালীতে এক শ্রেণীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। এ সকল শিক্ষকদের অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করার ঘটনাও ঘটছে।  এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। কমে যাচ্ছে ক্লাসে ছাত্র উপস্থিতি।ক্লাসে একজন ছাত্র নিয়ে চলছে ক্লাস আবার কোন ক্লাসে একজনও নেই এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকদের কাছে পাওয়া অভিযোগ  সরেজমিনে স্কুলগুলোতে উপস্থিত হলে অভিযোগের সত্যতাও মেলে। অনেক শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। উপজেলার জব্দকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা মাত্র ৭ জন। অনেক শ্রেণীতে শিক্ষার্থী নেই। এছাড়া উপজেলার দশটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রতিটি বিদ্যালয় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী।
 
 
 
এইভাবেই চলছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে স্কুলে কাগজে কলমে ছাত্র উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে নামে মাত্র ছাত্র-ছাত্রী আছে। যার ফলে সরকারিভাবে ছাত্র-ছাত্রীর জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হয়। তা অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে কলমে ছাত্রদের নামে পাইলেও বাস্তবে তা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 
 
 
অন্যদিকে এক শ্রেণীর শিক্ষক নানা অজুহাতে মেডিকেল সনদপত্র দাখিল করে  দিনের পর দিন স্কুলে অনুপস্থিত থেকে ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা কাজে সময় পার করছে। এছাড়া অনেক ছাত্র অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শহরমুখী শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদানে গুরুত্ব কম দিয়ে প্রাইভেট উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে বাসা ভাড়া নিয়ে এক এক জন শিক্ষক ২০ থেকে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় প্রাইভেট অথবা কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন।তাদের কাছে কোচিং করতে না গেলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব না বলেও অভিযোগ করেন ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা।
 
 
 
এই ধরনের অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যাচ্ছে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
 
 
 
নানা অনিয়মের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে অপরদিকে কিন্ডার গার্ডেন, নূরানী মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এবং শিক্ষকদের কাছে স্কুল পরিদর্শনে কোন অফিসার আসেন কিনা জানতে চাইলে তারা জানান মাঝে মধ্যে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তাদেরকে স্কুল পরিদর্শনে তেমন আসতে দেখা যায় না বলেও এলাকাবাসী জানান। 
 
 
 
সচেতন জনগণ মনে করেন এই সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করাসহ নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা ও অনিয়মে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
 
 
 
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার হোসেন বলেন, এই সমস্ত অভিযোগের বিষয় উদ্বেগের তবে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, স্কুল মনিটরিং জোরদার করা হবে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]