নিজস্ব প্রতিবেদক
নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তের কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাড়ির জায়গা দখল করে এই নির্মাণ কাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুচিন্দা ব্রিজের দুই পাশে খাড়ির জমিতে কনক্রিটের পিলার ও ঢালাই করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, এই খাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই খাড়ি দিয়েই প্রবাহিত হয়। এখন যেভাবে দখল করে ভবন তোলা হচ্ছে, তাতে পানির গতিপথ সরু হয়ে বন্ধ হওয়ার পথে যাচ্ছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুচিন্দা ব্রিজের দুই পাশে খাড়ির জমিতে কনক্রিটের পিলার ও ঢালাই করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, এই খাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই খাড়ি দিয়েই প্রবাহিত হয়। এখন যেভাবে দখল করে ভবন তোলা হচ্ছে, তাতে পানির গতিপথ সরু হয়ে বন্ধ হওয়ার পথে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, এই খাড়িটা আমাদের এলাকার প্রাণ। বর্ষাকালে ভারতের পানি আর আমাদের মাঠের পানি এই পথ দিয়েই নেমে যায়। এখন যদি খাড়ি বন্ধ করে ঘর তোলা হয়, তবে আমাদের আবাদি জমি তো ডুববেই, বাড়িঘরেও পানি উঠবে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি জায়গা এভাবে মগের মুল্লুকের মতো দখল করে ভবন তোলা হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। প্রভাবশালীরা খালের ওপর কনক্রিটের ঢালাই দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনের বর্ষায় এই এলাকার ৭-৮টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
এদিকে, এই অবৈধ দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরা। সাপাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীনের সঙ্গে খাড়ি দখলকারী ব্যক্তি অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে বাধা প্রদান ও কটাক্ষ করা হয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাপাহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাবুল আকতার বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুত ওই দখলকারীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাড়ির প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ জানান, সরকারি খাড়ি বা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে খাড়ির সীমানা নির্ধারণ ও সরকারি জমি উদ্ধার করা হোক, যাতে কৃষি ও জনবসতি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।