কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেলে ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপলোড সময় : ০৪-০৪-২০২৬ ১২:০৬:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৪-২০২৬ ১২:০৬:১৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা রহস্য ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে সহপাঠী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুক্রবার ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় কলেজ হোস্টেলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের পর তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন (২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষ) কলেজটির এমবিবিএস কোর্সের ছাত্রী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সহপাঠী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালে কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে অর্পিতা নওশিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ ও একাডেমিক জটিলতার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠে।

অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হলেও অর্পিতা নওশিন বারবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েও এনাটমি বিষয়ে পাশ করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে প্রথম বর্ষেই আটকে থাকতে হয়। পরবর্তীকালে তাকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হতে হয়। যা তার জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপে পড়েন অর্পিত নওশিন।

সহপাঠীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ব্যক্তিগত হতাশা, একাডেমিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক অস্বস্তি সব মিলিয়ে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানান তার ঘনিষ্ঠরা।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আচরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ ও ন্যায্য মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে লাশ উদ্ধার করতে। বিশেষ তদন্তের পূর্বে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। 

অন্যদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক লিটনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]