কুড়িগ্রামে প্রকাশ্য নিলাম গোপনে বেনামে সারলেন এসিল্যান্ড, কবে নিলাম হয়েছে জানেন না সর্বোচ্চ দরদাতা

আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০৩:২৮:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০৩:২৮:২৪ অপরাহ্ন
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
প্রকাশ্য নিলামের ঘোষণা দিলেও গোপনে ও বেনামে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নিলামের নামে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তির কাছে নামমাত্র মূল্যে সরকারি গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যেই গোপনে এই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এমনকি নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত গাছের সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
 
নিলাম বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন, পার্কিং ও রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য অফিস চত্বরে থাকা ১৭টি মেহগনি, ১টি কাঁঠালসহ মোট ২১টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত ৫ মার্চ প্রকাশ্য নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গাছগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা।
 
তবে নির্ধারিত দিনে সেখানে কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানান আগ্রহীরা।
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই উপজেলা ভূমি অফিসে গোপনে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মাত্র তিনজন অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নিলাম শেষ করা হয় এবং মোঃ নুর আলম নামে একজনকে সর্বোচ্চ দরদাতা ঘোষণা করা হয়।
 
অবাক করার বিষয় হলো, মোঃ নুর আলম নিজেই জানান তিনি নিলামে উপস্থিত ছিলেন না এবং কবে কোথায় নিলাম হয়েছে তাও তিনি জানেন না।
 
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাদেকুল ইসলাম মিলন বলেন, “নিলাম হওয়ার কথা ছিল এক জায়গায়, হয়েছে অন্য জায়গায়। এটি সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতি। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
 
আরেক বাসিন্দা মোঃ আশরাফুল হক বলেন, “তিন লাখ টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। গাছও বেশি কাটা হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল হক বলেন, “নিলাম প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ। আগ্রহীরা কিছুই জানতে পারেনি। ২১টি গাছের পরিবর্তে ২৮টি গাছ কাটা হয়েছে।”
 
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জুল জালাল অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “লে-আউটের প্রয়োজনেই ২-১টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে, যা এসিল্যান্ডের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।”
 
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার (এ্যাসিল্যান্ড) মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, “নিলাম প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতেই নিলাম হয়েছে। ২১টি গাছের বেশি কাটার বিষয়টি সঠিক নয়। যদি হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 
সর্বোচ্চ দরদাতা উপস্থিত না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “কেউ প্রতিনিধির মাধ্যমে অংশ নিলে তা যাচাই করা কঠিন।”
 
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 
উল্লেখ্য, নিলাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেন ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]