আশিকুর রহমান শান্ত
ভোলা জেলা প্রতিনিধি
ভোলায় জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ভোক্তারা। তেল কিনতে এসে প্রয়োজনীয় তেল কিনতে পারছেন না তারা। এ সংকটে ভোলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে জরুরিসেবা ব্যতিত সব ধরণের পরিবহনে তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই। কেউ আবার ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। জেলার ৬টি ফিলিং স্টেসনে গড়ে ২/৩’শ টাকার তেল সরবরাহ করছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে খুচরা বাজারে গত ৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে তেলবিক্রি। এতে আরও বেশী সমস্যায় কর্মজীবিরা।
এদিকে গত ২ দিন ধরে অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনে সামান্য তেল বিক্রি হতেও দেখা গেছে।
জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে ভোলায় জ্বালানি তেলের সংকট। ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না ফিলিং স্টেশন মালিকরা।
এরহমান এন্ড সন্সের ব্যবস্থাপক জহির ও আরিফ জানান, ডিপো থেকে আমরা তেল কম পাচ্ছি, তাই সবার চাহিদা মত সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা।
মা,শা আল্লাহ ফিলিং ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক শুভ মিয়া বলেন, ডিপো থেকে ৪/৫ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করছি, আমরা কাউকে ফেরাচ্ছি না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সকলকে তেল সরবরাহ করার।
জেলার ৬ টি ফিলিংশ স্টেশন রয়েছে, সেখান থেকে পুরো জেলায় তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। জানা গেছে, ভোলা জেলায় দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার লিটার, সেখানে অর্ধেক তেল সরবররবরাহ হয় না।
ভোলা সদরের মেঘনা ব্রিকসের শ্রমিকরা বলেন, ডিজেলের সংকটের কারনে গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাঠ পর্যায়ের উৎপাদন এবং পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে ভোলায় সামান্য ডিজেল সরবরাহ থাকল ও অকটেন এবং পেট্রোলের সংকটে অনেক পরিবহন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন স্যালোমেশিন এবং পাম্প বন্ধ রয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। সময় মত সেচ কাজ করতে পারছে না কৃষকরা।
আগে বাইকারদের ২০০ টাকা এবং প্রাইভেটকারকে দেড় হাজার টাকার তেল সরবরাহ করা হলেও এখন তা আরও কমে গেছে। তেল কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন ভোক্তারা
কয়েকজন বাইকার জানালেন, ঘন্টার পর ঘটন্টা ঘুরেও তেল মিলছে না, যা মিলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ভোক্তাদের অভিযোগ, তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে খুচরা বাজারে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন ছোট ছোট তেলের দোকানিরা। ফলে সংকট প্রকট আকার ধারন করছে। কবে নাগাত সংকটের সমাধান হবে জানা নেই কারো।
এদিকে গত দুই দিন ধরে নতুন নিয়মে বিক্রি হচ্ছে তেল। হেলমেট, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও বৈধ লাইসেন্সধারিদের দেয়া হচ্ছে তেল। পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভোলার শহরের ফিলিং স্টেশন থেকে তেল বিক্রি হচ্ছে।