​তেলের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া, রাজশাহীতে যাত্রীদের ক্ষোভ

আপলোড সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১১:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১১:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিং স্টেশন ও ডিপো মালিকদের একাংশের কারসাজিতে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন খাতের শ্রমিক-যাত্রী ও কৃষকরা।

শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল—তিন ধরনের জ্বালানিই সংকটে রয়েছে। তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। অনেকে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিজেলের অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কৃষিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরকারি সূত্রে জ্বালানি সংকটের কথা অস্বীকার করা হলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখছেন ভোক্তারা। রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশন ও ডিপো থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পাম্পে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে অরাজকতা চরম আকার ধারণ করেছে। বাস টার্মিনালগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঈদের আগে রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হয়েছে। সিলেট রুটেও একই চিত্র দেখা গেছে, যা ঈদের পরও অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা রুটে কিছু প্রতিষ্ঠিত পরিবহন ছাড়া অধিকাংশ বাসেই ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় রুটগুলোতেও ভাড়া বৃদ্ধি লক্ষণীয়। রাজশাহী-নওগাঁ রুটে ৩০-৫০ টাকা এবং তানোর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলকারী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গোদাগাড়ী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটেও ২০-৩০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীরা বাসে ওঠার পর তেলের সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আপত্তি করলে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিষয়টি গোপন রাখতেও চাপ দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামগামী যাত্রী ইলিয়াস জানান, ঈদের আগে ১৬০০ টাকা ভাড়া দিলেও বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সিলেটগামী যাত্রী খুশবর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার তেলের দাম না বাড়ালেও ভাড়া কেন বাড়ানো হচ্ছে—এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহে অতিরিক্ত ১ থেকে ১.৫ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা যাত্রীদের কাছ থেকেই আদায় করা হচ্ছে। তবে সংকট কেটে গেলে ভাড়া স্বাভাবিক হবে বলেও তারা জানান।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, কিছু চালক তেলের সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

অন্যদিকে, সিএনজি চালকরাও ভাড়া বাড়িয়েছেন। রাজশাহী থেকে বাগমারা, তাহেরপুর, তানোর, মোহনপুর, নওগাঁ ও মান্দাসহ বিভিন্ন রুটে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত ভাড়া না দিলে যাত্রী তোলা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাহেরপুরের যাত্রী রহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, চালকরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের যাত্রীরাও।

রাজশাহী সিএনজি স্টেশনের মাস্টার হাসান আল মামুন বলেন, অনেক চালক পাম্পে তেল না পেয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন। অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিতে তারা ভাড়া বাড়াচ্ছেন। তিনি দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট রাজশাহীর জনজীবনে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]