নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের উত্তরের চরাঞ্চলে যখন শীতের শেষে রোদ পড়ে, তখন ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে ওঠা বালুচরগুলো ধীরে ধীরে লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। দূর থেকে মনে হয় যেন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে লাল কার্পেট বিছানো হয়েছে। কাছে গেলেই বোঝা যায়— সেটি আসলে গাইবান্ধার কৃষকদের ঘামে ফলানো টকটকে লাল মরিচের ক্ষেত। এই মরিচ এখন শুধু একটি ফসল নয়, এটি গাইবান্ধার কৃষি অর্থনীতির শক্ত ভিত এবং জেলার অন্যতম ব্র্যান্ডিং পণ্য।
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ২০১৮ সালে রসমঞ্জুরী, ভুট্টা ও মরিচকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরপর থেকেই মরিচ চাষ, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব বাড়ে।
গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলছড়িতে ৯২০ হেক্টর, সাঘাটায় ৪৯১, সুন্দরগঞ্জে ১২২, গোবিন্দগঞ্জে ১৪৫, সাদুল্লাপুরে ১৬৫, পলাশবাড়ীতে ৪৫ এবং সদরে ৬৮ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে এ বছর ৫ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
জেলার সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ছোট-বড় ১৬৫টি চরসহ সাত উপজেলাতেই কম-বেশি আবাদ হয় মরিচের।। তবে নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ চরগুলোতেই সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।
চরের মাঠে, মরিচ রাজ্য
ফুলছড়ি উপজেলার পুরাতন চরগুলোর মধ্যে একটি চর ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারি। চরটি মরিচ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সরেজমিনে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারি, নিশ্চিতপুর, বাজে তেলকুপি, তালতলা, কাউয়া বাজার ও বুলবুলির এবং উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর ঘুরে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরজুড়ে যেন রঙের উৎসব। দিগন্তজোড়া মাঠে সারি সারি গাছের ফাঁকে ঝুলছে লাল, সবুজ আর হলুদ মরিচ। কোথাও কাঁচা, কোথাও আধাপাকা, আবার কোথাও টকটকে লাল মরিচে ভরে আছে গাছ। দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন সবুজ মাঠের বুক জুড়ে ছড়িয়ে আছে আগুনরঙা বিন্দু।