আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের প্রতিটি জ্বালানি ‘তেলশূন্য’ হওয়ায় সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। হাজার হাজার গ্রাহক তেল কিনতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছেন। তেল সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তেল না পাওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলা শহরের খলিলগঞ্জে অবস্থিত এসএস ফিলিং স্টেশনে কয়েকজন গ্রাহক উত্তেজিত হয়ে হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় ওই পেট্রল পাম্পে পুলিশকে পাহারা দেখা গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। কিন্তু কোনটিতেই পেট্রল, ডিজেল কিংবা অকটেন- কোনও প্রকার জ্বালানি তেল নেই। ঈদের আগেই তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে রশি টেনে সেগুলো বন্ধ থাকার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে ফেরত যাচ্ছেন। দিনভর একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রবিবার বিকালে মোঃ আনিছুর রহমান নামে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘কোনও পাম্পে তেল পাচ্ছি না। যেখানেই যাচ্ছি বলছে, তেল নাই। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? তেল না পেলে এতোগুলো মানুষ কীভাবে তাদের প্রয়োজন মেটাবে?’
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, ‘মাত্র বোরো আবাদ মাথা তুলছে। এই সময় যদি তেলের জন্যে মানুষ সেচ দিবার না পায় তাহলে কৃষকরা না খায়া মরবে। পাম্পত গেইলে কয় পেট্রলও নাই, ডিজেলও নাই। মানুষ তাইলে যাইবে কোটাই (কোথায়)।’
পাম্প মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, সরকার রেশনিং বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে প্রত্যেক ফিলিং স্টেশনকে রেশনিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রাহক পর্যায়ে রেশনিং করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত সরবরাহ হওয়ায় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর ঈদের ছুটিতে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। জেলার কোনও পাম্পে তেল নেই। ছুটি শেষে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সহসাই সংকট দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কুড়িগ্রাম ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামান আহমেদ বলেন, ‘তেল না থাকায় মালিকরা জেলার পেট্রল পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু গ্রাহকরা তেল না পেয়ে উত্তেজিত হচ্ছেন। তেল না থাকলে আমরা দেবো কীভাবে। কিন্তু কিছু গ্রাহক পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
‘আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মিটিং কল করেছি। সরকারের কাছে আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের পাশাপাশি নিরাপত্তার দাবি জানাই। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’ যোগ করেন মালিক সমিতির এই নেতা।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘আমরা পাম্প মালিকদের সঙ্গে মিটিং করেছি। তাদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ চেয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর পত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রল পাম্পগুলোর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’