আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো বর্তমানে ধুলায় ছেয়ে গিয়ে যেন ধুলার নগরে পরিণত হয়েছে। সামান্য বাতাস কিংবা কোনো যানবাহন চলাচল করলেই বাতাসে ধুলার ঘন স্তর তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, যানবাহনের চালক ও সড়কের পাশের দোকানদাররা। ধুলাবালির কারণে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় দিবা ও নৈশ বাসস্ট্যান্ড এবং কাছাকাছি আঞ্চলিক বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দিনরাত শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রলি, ট্রাক্টর ও বালুবাহী যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপের কারণে সড়কজুড়ে ধুলাবালির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করেও অনেক সময় স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বেশ কিছু সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে এবং কিছু স্থানে সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। এর ফলে সড়কে ধুলার স্তর জমে রয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেই ধুলা বাতাসে উড়ে আশপাশের দোকানপাট ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় ধুলার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ধরলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কিছু ব্যবসায়ী ট্রাক্টরের মাধ্যমে শহরের সড়ক ব্যবহার করে তা পরিবহন করছে। এসব যানবাহন থেকে বালু পড়ে সড়কে জমে ধুলাবালির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ার কারণেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
ঘোষপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী জগন্নাথ কর্মকার বলেন, ধুলার কারণে দোকানে বসে ব্যবসা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সারাদিন ধুলার মধ্যে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
কুড়িগ্রাম জিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, বাজারের সামনের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। একটি গাড়ি চললেই চারপাশ ধুলায় ঢেকে যায়। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, ধুলাবালির কারণে শহরের অনেক পরিবারেই এখন সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আল আমিন মাসুদ জানান, দীর্ঘদিন ধুলাবালির মধ্যে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গত এক বছরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়ক সংস্কার, ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং অবৈধ বালুবাহী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।