​মধ্যে প্রাচ্যের যুদ্ধের বলি হয়ে অবশেষে বাড়ীতে লাশ হয়ে ফিরলেন আহমদ আলী

আপলোড সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৫:৪০:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৫:৪০:৪৬ অপরাহ্ন

এস. এম. জালাল উদদীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:

ইসরাইল, আমেরিকা -ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতে প্রাণ হারানো মৌলভীবাজারের বড়লেখার আহমদ আলী উরফে সালেহ আহমেদের মরদেহ সোমবার ৯ মার্চ তার গ্রামের বাড়িতে এসে পৌছেছে। এসময় ছিলো চারিদিকে শোকের মাতম। তাকে হারিয়ে শুধু পরিবার নয় পুরো গ্রামই শোকে বিহল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমেদ। করতেন পানি সরবরাহের কাজ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের মতো কাজে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিষ্ঠুর যুদ্ধ তাকে বাঁচতে দিলো না।  ইসরাইল, আমেরিকা -ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রথম দিনই প্রাণ হারান এই রেমিটেন্স যোদ্ধা।

দেশে এসে স্বপ্নের নতুন বাড়ির নির্মান কাজ শেষ করে কলেজ পড়ুয়া তার মেয়ের বিয়ে দেয়ার কথা কথা ছিল। কিন্তু  কোন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলনা। বাড়ির উঠোনে তার মরদেহ একনজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ছুটে এসেছেন।

এদিকে তার মৃত্যুের পর পরিবারের দাবী ছিলো উনার মৃতদের দেশে এনে সমাহিত করা। সে অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার তার মরদেহ ঢাকা থেকে সিলেট বিমান বন্দর হয়ে  বিকেল সোয়া ৩ টায় গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার হাজীটেকা এসে পৌঁছে। সিলেট এয়ারপোর্টে আহমদ আলীর মরদেহ গ্রহন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে সড়ক পথে বিয়ানীবাজার হয়ে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছে।

এদিকে বাড়িতে সবাই তার মৃতদের দেখে পরিবার পরিজন গ্রামবাসী শোকে ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জানান, তিনি ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপাজনক্ষম ব্যক্তি। তবে বাড়িতে আসলে গ্রামে সবার সাথে মিশতেন। পুরনো বাড়ির পাশে নতুন একটি বাড়ি বানাচ্ছিলেন সেটিও দেখে যেতে পারলেন না। তবে সবার দাবী সরকার থেকে যাতে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

এদিকে আহমদ আলীর মরদেহ সিলেট এয়ারপোর্টে থেকে রিসিভ করে তার গ্রামের বাড়িতে নিজেই ছুটে আসেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধান মন্ত্রীর নিদর্শনায় আমরা এই পরিবারসহ সকল প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাশে আছি। তার পরিবারের জন্য আপাততঃ প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসন মৌলভীবাজার থেকে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা অর্থ সাহায্য করা হয়েছে। আর জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা তারা করবেন। তাছাড়া  পরবর্তীতে তার সন্তান ও পরিবারকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

এদিকে ৯ মার্চ সোমবার আছরের নামাজের পর স্থানীয় গাজীটেকা শাহী ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তার মরদেহ স্থানীয় পাঞ্জেগানা কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযার নামাজে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]