নিজস্ব প্রতিবেদক
মেক্সিকোর শীর্ষ মাদকসম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা, অপরাধজগতে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর দীর্ঘ ও সহিংস মাদকযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
৬০ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অপরাধী সংগঠন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি অল্প সময়ের মধ্যেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদক ফেন্টানিল পাচারের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাঁকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করলেও বহু বছর তিনি মেক্সিকো ও মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ ভান্দা ফেলবাব-ব্রাউন মন্তব্য করেন, সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতাদের পর এল মেনচোই ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
মেক্সিকোর আরেক কুখ্যাত মাদকসম্রাট এল চাপো গুজমান কারাবন্দী হওয়ার পর এল মেনচো দেশটির অপরাধজগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ করতেন না তিনি; বরং আড়াল থেকেই পরিচালনা করতেন তাঁর সাম্রাজ্য। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চোরাই জ্বালানি, জোরপূর্বক শ্রম ও মানব পাচারের মতো অপরাধেও জড়িত ছিলেন তিনি।
২০১৫ সালে তাঁকে গ্রেপ্তারের এক অভিযানে তাঁর অনুসারীরা রকেটচালিত গ্রেনেড দিয়ে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে। সেবার তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। একই বছরে তাঁর নির্দেশে স্বল্প সময়ে দুই ডজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৯৬৬ সালে মিশোয়াকান রাজ্যের দরিদ্র গ্রামে জন্ম নেওয়া এল মেনচো শৈশবে কৃষিকাজ করতেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন, কারাভোগের পর দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিলেও পরে অপরাধচক্রে যুক্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত নিজেই সিজেএনজি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল তাঁকে দীর্ঘদিন সুরক্ষা দিয়েছিল। এমনকি ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় তাঁর সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণও করা হয়েছিল।
এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর মাদকযুদ্ধে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হলেও তাঁর বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য সহিংস প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।