নিজস্ব প্রতিবেদক
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মাত্র দুই হাজার টাকা পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মহিপুর থানার কয়েকশ’ গজ দূরে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খান।
সংঘর্ষে মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন গুরুতর জখম হন। এছাড়া আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর গোড়া আমখোলা গ্রামে দুই হাজার টাকা পাওনা নিয়ে সোলায়মান ও আকরামের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে সোলায়মানের পক্ষ নিয়ে শাওনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ আকরামকে মারধর করে। এসময় আকরামের মা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে শাওন ও তার সহযোগীরা মারধরের শিকার হন। এতে শাওন আহত হন।
অন্যদিকে আকরামের ওপর হামলার খবর পেয়ে, ছাত্রদলের আরেক গ্রুপের নেতা সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল রাতে মহিপুর কেয়ার মডেল হাসপাতালে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চিকিৎসাধীন শাওন ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালের গ্লাস ও দরজা ভাঙচুর করা হয়।
কেয়ার মডেল ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম মনিরুজ্জামান জানান, আহতদের খুঁজতে এসে হামলাকারীরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। এতে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক রোগীর পায়ে ইটের আঘাতে জখমের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গেলে এক পক্ষের লোকজন মহিপুর বিএনপি সভাপতি জলিল হাওলাদারকে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলের অন্য নেতারা।
মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আল মামুন সজিব বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে সভাপতিকে কেউ লাঞ্ছিত করেনি।
দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও হাসপাতালে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।