ত্রিশালে নির্মাণকাজ নিয়ে তোলপাড় হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং,

আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১২:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১২:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
 
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
 
পাকা সড়কের কাজ শেষ হওয়ার পর কার্পেটিং করা হয়েছে ।কিন্তু হাত দিতেই উঠে যাচ্ছে পিচঢালাই! এমন অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ত্রিশাল উপজেলার ৩ নং কাঁঠাল ইউনিয়নে ১ নং ওয়াডে দরিকাঁঠাল । স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়ম মেনেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
 
জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের দরিকাঁঠাল থেকে কাজীরশিমলা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের প্রকল্পে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের বাধার মুখে বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে মানুষ হাত দিয়ে টেনে টেনে কার্পেটিং তুলে ফেলছেন এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে কাজের মান নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
 
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সড়কটি পরিদর্শনে যান ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন। তারা কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করলে উপস্থিত এলাকাবাসী তীব্র প্রতিবাদ জানান।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছেন। সড়কের উপর জমে থাকা ধুলাবালি ও ময়লা পরিষ্কার না করেই বিটুমিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে পিচঢালাইয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, বিটুমিনের পরিমাণ কম থাকা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, সঠিক অনুপাতে পিচ ও পাথর মিশ্রণ না করা এবং রোলার দিয়ে যথাযথ কম্প্যাকশন না করাই এই অবস্থার কারণ।
 
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৪ টাকা। যদিও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। সম্প্রতি ৪০০ মিটার অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল মিয়া বলেন, “ইটের ওপর জমে থাকা মাটি পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। তাই হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। বর্ষা এলে এই সড়ক আবারও খানাখন্দে ভরে যাবে।”
 
আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া অভিযোগ করেন, “পিচঢালাইয়ের কিছু দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা চাই ময়লা পরিষ্কার করে পুনরায় মানসম্মতভাবে কাজ করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
 
আরেক বাসিন্দা রিফাত বলেন আমাদের এই রাস্তাটা রূপকথার গল্পের মত আমাদের বাপ দাদারা শুনে আসছে যে এই রাস্তাটা পাকা  হবে, কিন্তু হয়নি এখনো, আমাদের বয়স এখন ৩০ বছরের কাছাকাছি  এই নতুন স্বাধীন দেশে এসে রাস্তা পাকা করন হচ্ছে, যাও হচ্ছে শুধু আমাদের আশা পূরণ করা হচ্ছে, রাস্তার নিচে ময়লা রেখে তার উপর দিয়ে পিচ ঢেলে ঢালাই করে ফেলছে, এক সপ্তাহ না যেতেই  হাত সঙ্গে উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং। আমরা এমন রাস্তা ় চাই না, ভালো করে রাস্তা করতে পারলে করবে, আর না হয় বাপ দাদারা যেভাবে চলছে আমরাও এইভাবেই চলব।
 
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. রাজু আহমেদ বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ করা হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি।
 
এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন দাবি করেন, “পিচঢালাই দেওয়ার পরদিনই স্থানীয়রা না বুঝে কার্পেটিং তুলে ফেলেছেন। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
 
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “কাজে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। নিজের হাতে কার্পেটিং তুলে ফেলা অনুচিত। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট দ্বিমত। ফলে প্রকল্পটির গুণগত মান যাচাইয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]