বায়ান্ন ও একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে চব্বিশকে ধারণ করতে হবে: মাসুদ সাঈদী

আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০৫:২৩:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০৫:২৩:৪৬ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‎পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি ইনসাফপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, একুশের চেতনা কেবল ভাষার দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ন্যায়, অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ‎আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

‎তিনি বলেন, “বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র ও যুবসমাজ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছিল। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তরুণদের রক্তে লাল হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। সেই আত্মত্যাগের ইতিহাস আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

 

‎তিনি আরও বলেন, “আমরা বুকের তাজা রক্তের দামে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জন করেছি। একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা, একুশ মানে কোনো সমঝোতা না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই। ৪৭ এর ভাষা আন্দোলন যে কারণে ৭১র জন্ম দিয়েছে, ঠিক সে কারণেই জন্ম হয়েছে ২৪ এর।”

 

‎বাঙালির ইতিহাসের উজ্জ্বল মাইলফলকগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৫২ সালে আমাদের পূর্বসূরিরা ভাষার দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। তাদেরও বাধা দেওয়া হয়েছিল, প্রতিরোধ করা হয়েছিল, শহীদ করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দমিয়ে রাখা যায়নি। আমরা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে আমাদের ভাষার দাবি আদায় করে নিয়েছি। ১৯৫২, ৭১, ৯০, ২৪ সব এক সূত্রে গাঁথা। একাত্তর আমাদের ফাউন্ডেশন, আর চব্বিশ তার পিলার। বায়ান্না ও একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে চব্বিশকে ধারন করতে হবে। চব্বিশের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।”

 

মাসুদ সাঈদী এমপি বলেন, “১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালি জাতির জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। কিন্তু সেই অর্জন শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ আছে। বাস্তবে সেটি এখনো দেখা যায়না। এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার শুরু হয়নি। আমাদের আদালতগুলোতে এখনো ইংরেজীতে রায় লেখা হয়। বাংলা ভাষার জন্য জীবন দেওয়া হলেও বাংলা মাসের হিসেবে দিবস পালন না করে পালন করা হয় ইংরেজী মাসের ২১ তারিখ। এগুলো বন্ধ করতে হবে। শহীদের রক্তের পরিশোধ করতে হলে সুখী সমৃদ্ধশালী বৈষম্যহীন এক নাংলাদেশ গড়তে হবে।”

 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়ানগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওয়ালিউর রহমান, জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম হাওলাদার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বাক নাজমুল হাসান, গণ অধিকারের জিয়ানগর উপজেলার সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, জওয়ানগর উপজেলার আমীর মাওলানা আলী হোসেন, ইন্দুরকানী সরকারী কলেজের প্রভাসক জাকারিয় হোসেন, ইন্দুরকানী প্রেসক্লাবের  সভাপতি মো. নাসির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]