মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
রাত পোহালেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতি। একুশ বাঙালি জাতির ইতিহাসে আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্রসমাজ। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নিলে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শহীদ হন আবদুস সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ।
শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি লাভ করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার ভিত্তি রচনা করে।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে ভাষার বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হবে।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল শোকের নয়, এটি চেতনারও দিন। ভাষার জন্য আত্মদান বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। জাতি এ দিনে শহীদদের স্মরণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও শুদ্ধ চর্চা রক্ষায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।