কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ভোটের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আওয়ামী ও সংখ্যালঘু ভোট, পাল্টে যেতে পারে হিসাব-নিকাশ

আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৪:০৮:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৪:০৮:৪৪ অপরাহ্ন
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
ভোটের দিনক্ষণ যতই কাছে চলে আসছে উত্তেজনা ততই বাড়ছে। এ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে। যে লড়াইটি হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। উভয় প্রার্থী আবার আওয়ামী লীগ ও হিন্দু ভোটারদের কাছে টানতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ, হিন্দু ভোটারের সমর্থনের ওপর। তবে নতুন ও তরুণ ভোটাররাও নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে নারী ভোটাররাও একটা বড় প্রভাবক বলে অনেকে মনে করছেন।
 
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৬ জন। হিন্দু ভোটার রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। নতুন ও তরুনদের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।
 
এ আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী একেএম মাঈদুল ইসলামের ছোট ভাই মোঃ তাসভীর উল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির সভাপতি ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ আব্দুস সোবাহান, গণঅধিকার পরিষদের সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. এডভোকেট মোঃ শাফিয়ার রহমান।
 
ভোটারদের ভাষ্য, যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে পারবেন নির্বাচনে জয়ের পাল্লা তাঁরই ভারী হবে। বদলে যাবে ভোটের সমীকরণ। সবার দাবি, যেন শান্তিতে ভোট দিতে পারা যায়। বিভিন্ন এলাকার হিন্দু ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট নিয়ে তাদের ওপর নানা চাপ রয়েছে। ভোটের নিরাপদ পরিস্থিতি থাকলে তারা ভোট দিতে যাবেন। কারণ ভোট দিতে না গেলে তারা রোষের মুখে পড়বেন। তবে তারা কাকে ভোট দেবেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 
 
আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভোটের বিষয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের ভোটাররা নিরাপত্তা পেলে ভোট দিতে যাবেন। ভোট তারা তাদের পছন্দ মতো প্রদান করতে পারবেন।’
 
উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হায়দার আলী মিয়ার ভাষ্য, ‘আমরা অনেক এগিয়ে আছি। আমরা জিতবো ইনশাআল্লাহ।’ তিনি প্রদান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন জামায়াত প্রার্থীকে। 
 
উলিপুর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির কামাল কবির লিটন বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। ভোটাররা আমাদের কথা দিয়েছেন। এবার তারা আমাদের ভোট দেবেন। শতভাগ নিশ্চিত আমরা জিতবো। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।’ তারা তাদের থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে তাঁর দাবি। 
 
তিনটি নদীবেষ্টিত উলিপুরের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। ভোটারদের অভিযোগ, অতীতে অনেক প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেননি। এবার ভোটাররা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং যারা নদীভাঙন রোধে বাস্তব কাজ করবেন, তাদের ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন।
 
 
 
 
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]