নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি নারী কর্মীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় দেবীগঞ্জ পৌরসভার নৃপেন্দ্র নারায়ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে নারীদের উপস্থিতিতে মিছিলটি পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নারী কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।
বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নারী কর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হয়। মিছিল শেষে পায়রা চত্বরের পাশে অবস্থিত এরশাদ মঞ্চে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে নারী কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী ত্রিশোর্ধ্ব রাবেয়া বেগম বলেন, অনেক নারী কর্মী শিশু সন্তান কোলে নিয়েই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সংসারের কাজ শেষ করেও তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে যোগ দেন, যা তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রমাণ।
আরেক কর্মী নূরজাহান বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াচ্ছে এবং রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া, দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসেন, দেবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের পরিচালক আমির হোসেন, সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, দেবীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হাসান এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মশিউর রহমান।
সভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড়-২ আসনটি দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)-এর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।