আমি জামায়াতের বিজয় চাইনা, আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়: ডা. শফিকুর রহমান

আপলোড সময় : ০৪-০২-২০২৬ ০৮:০১:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০২-২০২৬ ০৮:০১:৪১ অপরাহ্ন


কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার কটিয়াদী উপজেলাধীন কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলী ঐক্যজোট আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের যুবসমাজ ঘুমিয়ে নেই। তারা জেগে আছে। তারা শুধু নিজের ভোট নয়, সবার ভোটের পাহারাদারি করবে। ইনশাআল্লাহ এখন আর কোনো দুর্বৃত্ত কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে জাতি তাদের পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কারও কাছে কোনো বিশেষ আনুকূল্য চাই না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের অধিকার হরণ করতে আসে, তাহলে আমরা ছেড়ে দেব না-সে যেই হোক।জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, আমার অধিকার মানে শুধু জামায়াতের অধিকার নয়। এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের-মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার অধিকার। আমরা দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না; আমরা চাই জনগণের সরকার। আমি জামায়াতের বিজয় চাইনা, আচি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।



পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা পুরোনো অন্ধকার রাজনীতির পথে হাঁটতে চায় তারা সেই পথেই থাকুক, আর জামায়াত ও জনগণ আলোকিত পথেই এগিয়ে যাবে। তার ভাষায়, যুবসমাজ ইতোমধ্যেই ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়ে দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই জেলার মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে; এটাই ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য। আমরা বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের ফুলের বাগান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, অতীতের বিভাজনমূলক ও পচা রাজনীতি আর ফিরে আসবে না। চব্বিশের যুবসমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ধসঢ়;ক্ষা নিয়ে রাজপথে নেমেছে, অতীত আঁকড়ে ধরার জন্য নয়। আগামী ১৩ তারিখ থেকে দেশে সেই পরিবর্তনের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



নারী ও যুবকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মা বোনদের প্রতি আমরা দারুন কৃতজ্ঞ। প্রথমত আমরা মায়ের সন্তান মায়ের গর্ভ থেকেই আমরা সবাই এ দুনিয়াতে এসেছি; মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি; মায়ের বুকের বিছানায় লালিত পালিত হয়েছি; মায়ের স্নেহ যতœ আদর ভালোবাসায় লেখা পড়া করেছি; এই মায়ের কোনো ঋন পরিশোধ করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব? সম্ভব না। কিন্তু আমাদেরকে কৃতজ্ঞ চিত্তে পরিশোধ করার চেষ্টা করতে হবে ইনশাআল্লাহ। জুলাই আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে উশৃংখল সন্ত্রাসীরা হাত দিয়েছিলো। সে দিন এই বাংলাদেশে আগুন জ্বালে উঠেছিলো। মানুষ সব কিছু সহ্য করতে পাড়ে কিন্তু তার মার আপমান সহ্য করতে পারে না। সমান ভাবে তরুণদের সাথে তরুণীরা যুবকদের সাথে যুবতীরা ভাই এর সাথে বোন এবং বাবার সাথে মায়েরা ২৪ এ যুদ্ধ করেছে ।আমরা মাদেরকে কথা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আপনাদেরকে সমাজের সবচাইতে সম্মানিত অংশ হিসাবেই আমরা মাথায় তুলবো। এটা আমাদের দ্বায়িত্ব যে জাতি মাকে সম্মান করে আল্লাহতায়ালা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। আর যে জাতি মায়ের সম্মান রাখতে পারে না আল্লাহতায়ালা তাদের সম্মান উঠিয়ে নেন জুলাই আন্দোলনে ছেলে-মেয়েরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। অথচ দেশে এখনো নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার ঘাটতি রয়েছে।তিনি বলেন, আমরা শুধু উন্নয়ন নয়, আগে নিরাপত্তা চাই। আমরা চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা।


বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। বাংলাদেশ তোমরাই গড়বে, তোমরাই চালাবে। তোমরা থাকবে বাংলাদেশ নাম উড়োজাহাজের ড্রাইভিং সিটে; আর আমরা থাকব প্যাসেঞ্জার সিটে। হাওরাঞ্চল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা হাওর অঞ্চল, যা খাদ্য ও প্রোটিনের বড় যোগান দেয়। কিন্তু নদী ও বিল ধ্বংসের কারণে এই অঞ্চল আজ সংকটে। নদীর জীবন ফিরলে বাংলাদেশের জীবন ফিরবে। নদী দিয়েই আমাদের সংস্কারের কাজ সূচনা করবো।


নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলতে গিয়ে বলেন, যে জাতি মাকে সম্মান করে আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করেন, আর যারা পারে না তাদের সম্মান কেড়ে নেন।এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার নামে অশালীন বার্তা ছড়ানো হয়েছে, যা সাইবার টিম ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


পরিশেষে শেষে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন। এখন তো মাঘ মাস; মাথা এখনই এত গরম! চৈত্র মাস আসলে কি করবেন? জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। সুষ্ঠু ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে আমরা অভিনন্দন জানাব। কিন্তু চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে নতুন যোগ দেওয়া মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান রঞ্জন, তাড়াইল- করিমগঞ্জ আসনে জামায়াত প্রার্থী প্রফেসর ডা: জেহাদ খান, ইটনা- মিঠামইন-অষ্টগ্রাম আসনের জামায়াত প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ খোকন রেজা, কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, জাতীয় এনসিপি নেতা আহনাফ সাঈদ খান, কিশোরগঞ্জের সাবেক জামাতের আমির অধ্যক্ষ তাইবুজ্জামান, অধ্যাপক মো. আব্দুস সালাম, অ্যধাপক মোছাদ্দেক ভূঁইয়া, আজিজুর রহমান, সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা জনসভায় অংশ নেন। সভা শেষে কিশোরগঞ্জ-২, ৩, ৪ ও ৫ আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দলীয় দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দেন তিনি। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের বিষয়টি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]