​হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের প্রান্তিক ভোটাররা ঝুঁকছেন দাঁড়িপাল্লার দিকে

আপলোড সময় : ২৬-০১-২০২৬ ১০:৪৬:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০১-২০২৬ ১০:৪৬:৫১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:


বরিশালের মেঘনা, কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীবেষ্টিত দুই উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্গম জনপদ হিসেবে পরিচিত এ দুই উপজেলা ও প্রশাসনিক থানা কাজিরহাট নিয়েই গঠিত বরিশাল-৪ আসন।

এই আসনের মোট ভোটার ৪২১৯৭৫ জন, পুরুষ ভোটার ২১৭৯৪২ ও নারী ভোটার ২০৪০৩০ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশ ভোটার প্রান্তিক শ্রেণীর যারা পেশায় শ্রমিক। তাদের মধ্যে জেলে শ্রমিক উল্লেখযোগ্য। তাছাড়াও কৃষক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, মটর সাইকেল ও অটোড্রাইভার, রিক্সা ও ভ্যান চালক, দর্জি শ্রমিক ও ফার্নিচার শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার শ্রমিক রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক শ্রমজীবি ভোটারদের সাথে আলাপ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এই দূর্গম এলাকায় দেখা গেছে ভিন্নরকম উৎসাহ উদ্দীপনা। নিজেদেরকে সবচেয়ে অহেলিত জনপদের মানুষ দাবি করে তারা আগামী নির্বাচনকে উন্নয়নের সোপান হিসেবে দেখতে চায়।
মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার মোটরসাইকেল চালক ইয়ামিন বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিব এবার । এর আগে আমি কোনদিন ভোট দেইনাই, তাই এবার ইসলামের পক্ষে একটি ভোট দিয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে চাই। 

উলানিয়ার হাসানপুরের পেশাদার জেলে মোঃ রিয়াজ বলেন, বিগত দিনে আমরা অনেক সরকার দেখেছি। চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দুর্নীতি থেকে রেহাই মেলেনি। জুলাই বিপ্লবের পর থেকে জামায়াতকে কোন অপকর্মে লিপ্ত হতে দেখিনাই। তাই মনে করি তারা ক্ষমতায় গেলেও এভাবেই সততার সাথে দেশ চালাবে। এজন্য আমাদের এবারের পছন্দ জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা।

শ্রীপুর ইউনিয়েনের কাঠ মিস্ত্রি রাজিব বলেন, সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাই। জাঙ্গালিয়ার কৃষক আবদুল্লাহ বলেন, অনেক দল দেখেছি তারা আমাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাই এবার আমাদের পছন্দ দাঁড়িপাল্লা। 

চরগোপালপুরের দিনমজুর আঃ করিম বলেন, অনেক দল  দেখছি তারা গরিবের হক মেরে খায় তাই এবার ভোট দিমু দাঁড়িপাল্লায়। চর একরিয়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আর চাঁদাবাজি দেখতে চাইনা তাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিমু। উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের সফুরান বিবি বলেন, বহুত দলেরে আগে দিয়া দেখছি। এবার জামায়াত চাই। আমরা সপরিবারে সবাই এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিব। এলাকার সকলকে নিয়েই এটা করতে চাই। চাঁনপুরের ভার্সিটি পড়ুয়া মুক্তা খানম বলেন, বিভিন্ন ভার্সিটির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যেভাবে অন্যায়-অবিচারে বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা রায় দিয়েছে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ন্যায়ও ইনসাফের প্রতিক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবো।

হিজলা উপজেলার হরিনাথপুরের ইটভাড়া শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে অন্যান্য দলরে ভোট দিয়া দেখছি। এবার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ত করেছি জামায়াতকে ভোট দিব। আমার এলাকার অধিকাংশ মানুষই এটা চায়।
কাজিরহাট থানার আন্দারমানিক ইউনিয়নের ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিগত দিনে ক্ষমতাসীনরা আমাগো কৃষকের সার-বীজ মেরে দিছে, তাই আমাগো অধিকার ফিরে পেতে দাঁড়িপাল্লা ভোট দিবো।

উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাটের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ঘুরে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। তবে কোন কোন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের প্রভাব কম পাওয়া গেলেও নেতা-কর্মীরা অনেকটা আত্মবিশ্বাসী। তাদের ধারনা, এবার একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মনের মধ্যে ঝুঁক এসেছে। সেই জোয়ার বিপুলভোটে তারা বিজয়ী হতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

বরিশাল-৪ আসনের এগারো দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, এই দুটি উপজেলা সবচেয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত। ফলে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার জন্য রয়েছে দুই উপজেলায় ১টি করে ৫০ শয্যার হাসপাতাল। অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায়ও মারা যায়। ইতিপূর্বে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা জনগণের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। ফলে এবার জনগণ ঘুরে দ্বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এসব অনিয়ম-জুলমের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ দিবেন।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]