কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে এনজিও কর্মীর হাতে সদস্য নির্যাতনের অভিযোগ

আপলোড সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৭:০৮:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৭:০৮:৪৫ অপরাহ্ন
 
​রংপুর প্রতিনিধি:
 
​রংপুরের মিঠাপুকুরে এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে এক গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। আদ-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের এক মাঠকর্মীর বাড়িতে ওই গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এসময় তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা পরিবারের আরও তিন সদস্যকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আহতরা মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 
 
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের ঘেচুলিয়া গ্রামের মহাসীন আলীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৫) আদ-দ্বীন এনজিওর একজন নিয়মিত গ্রাহক। গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে তিনি এনজিওর মাঠকর্মী লিলি বেগমের বাড়িতে কিস্তির টাকা জমা দিতে যান। টাকা জমা নেওয়ার পরিবর্তে লিলি বেগম পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাবেয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বাড়ির উঠানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালান।
 
 
রাবেয়াকে নির্যাতনের খবর পেয়ে তাঁর স্বামী মহাসীন আলী, শ্বশুর আকমল হোসেন এবং মেয়ে মদিনা খাতুন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, লিলি বেগমের নির্দেশে সশস্ত্র একদল হামলাকারী তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লিলি বেগমের সহযোগী লাইজু মিয়া লোহার রড দিয়ে মহাসীন আলীর মাথায় ও বুকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। বৃদ্ধ শ্বশুর আকমল হোসেনকে (৭০) বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এসময় মহাসীন আলীর স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নাজমুল হোসেন নামে এক যুবক শ্লীলতাহানি করে এবং লিলি ও সাহেবা বেগম মিলে কিশোরীটির গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায়।
 
 
আহত মহাসীন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার স্ত্রী কিস্তি দিতে গিয়েছিল, মার খেতে নয়। আমরা তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদের ওপর খুনে হামলা চালানো হয়। আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েটার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল নাজমুল। লিলি বেগম এনজিওর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের শেষ করে দিতে চেয়েছেন। আমি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
 
 
এ বিষয়ে আদ-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের শাখা ব্যবস্থাপক রশিদুল ইসলাম জানান, তারা এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
​মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, "ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]