দেবীগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ: ধ্বংস করা হলো সরিষার ক্ষেত

আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০১:০২:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০১:০২:২৭ অপরাহ্ন
মোঃ আকতারু জ্জামান
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :


পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ট্রাক্টর দিয়ে সরিষার ক্ষেত নষ্ট করে প্রায় ৩৭ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা এক একর জমি জোরপূর্বক দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মাসুদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা মৌজার ধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাপোতা মৌজার ১৬২ নম্বর এসএ খতিয়ানের ৪৭০ নম্বর দাগভুক্ত এক একর জমিতে আব্দুল্লাহ মাসুদ দলবল নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিচ্ছেন। ওই জমিতে প্রায় দেড় মাস বয়সী সরিষার চারা থাকলেও তা নষ্ট করে ভুট্টার বীজ বপন করা হয়।

স্থানীয়দের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদের বাবা আবুল হোসেন ১৯৭৭ সালে তার দুই মেয়ে আঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাতেমা বেগমের নামে জমিটি ক্রয় করেন (দলিল নং–৩৩৭০)। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম ১৯৮৯ সালে দলিল নং–৫৫০১ এর মাধ্যমে ৩৩ শতক, ১৯৯২ সালে দলিল নং–৩৯৫৫ এর মাধ্যমে ২০ শতক এবং ২০০৬ সালে দলিল নং–৩৩১৮ এর মাধ্যমে সাড়ে ৭ শতক জমি আব্দুল কাদের গংয়ের কাছে বিক্রি করেন। ৫৫০১ নম্বর দলিলে আবুল হোসেন নিজেই সনাক্তকারী ছিলেন।

অপরদিকে আঞ্জুয়ারা বেগম ১৯৯৬ সালে দলিল নং–১৩৯ এর মাধ্যমে সাড়ে ৬০ শতক জমি মাহাবুবুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মাহাবুবুর রহমান দলিল নং–৪০৯৮ এর মাধ্যমে ওই জমি আব্দুল কাদের গংয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ১৯৮৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মোট চারটি দলিলের মাধ্যমে মালিকানা অর্জনের পর আব্দুল কাদেরের স্ত্রী, ছেলে আব্দুল মালেক, ভাই জহির মণ্ডল, চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে ছিলেন।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদ দাবি করেন, তার বাবা ১৯৭৫ সালে দলিল নং–৬২১৯ এর মাধ্যমে রবিউল আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল হোসেনের জীবদ্দশায় ওই দলিল নিয়ে কখনো কোনো দাবি বা দখলের চেষ্টা করা হয়নি। এছাড়া ২০০৮ সালের ভূমি জরিপে আব্দুল মালেকরা মাঠ খতিয়ান পেলেও তখন আব্দুল্লাহ মাসুদ পক্ষ কোনো আপত্তি তোলেননি।

আব্দুল্লাহ মাসুদের দাবি, তারা ১৯৭৫ সাল থেকে জমিটি ভোগদখলে ছিলেন এবং ২০২৩ সালে দখলচ্যুত হন। এ নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জমিতে না যেতে নির্দেশ দেন। সে সময় প্রায় তিন মাস জমিটি পতিত ছিল। পরে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ইউএনও মৌখিকভাবে আব্দুল কাদের গংকে চাষাবাদের অনুমতি দেন বলে অভিযোগকারীরা জানান। এরপর প্রায় দেড় মাস আগে জমিতে সরিষার চাষ করা হয়।

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ মাসুদ বলেন, “২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালত আমাদের দখলে জমি দেখিয়ে রায় দেন। আদালতের কাগজপত্র পেতে দেরি হওয়ায় ১৩ জানুয়ারি জমিতে চাষ দিয়ে দখল নিই।”

এদিকে জমি দখলকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৭ মে আব্দুল মালেক আব্দুল্লাহ মাসুদের বিরুদ্ধে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দীপালী রানী ৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তদন্ত করে জমিটি পতিত রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দেন। তবে ভুক্তভোগীসহ একাধিক সূত্র জানায়, ওই সময় জমিতে বাদামের আবাদ ছিল। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দীপালী রানী বলেন, “প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কিছুটা ভুল হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জমিটি প্রথম পক্ষ আব্দুল মালেকের দখলেই ছিল এবং সেখানে বাদাম চাষ করা হয়েছিল।”

এছাড়া নালিশি জমির বাইরে আলাদাভাবে ক্রয় করা আরও সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখল নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক বলেন, “দলিল অনুযায়ী আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ করছি। আদালত কোথাও জোরপূর্বক দখল নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। এরপরও সরিষার ক্ষেত নষ্ট করে জমিতে চাষ দেওয়া হয়েছে।”

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]