নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে চিন্তিত কুড়িগ্রামের ভোটাররা

আপলোড সময় : ১১-০১-২০২৬ ১১:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০১-২০২৬ ১১:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
ভোট আসে, ভোট যায়। ভোট এলেই প্রার্থীরা দেন নানা প্রতিশ্রুতি। অথচ ভোট শেষ হলে অনেক প্রার্থীই ভুলে যান তাদের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির কথা। প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ যেমন ছিল, তেমনই থেকে যায়—চলে তাদের নীরব কান্না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের নানা আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ ভোটাররা।
 
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম দেশের দরিদ্রতম জেলাগুলোর একটি। আজও এ জেলায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জেলার অধিকাংশ উপজেলার সঙ্গে এখনও সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেতু আজও নির্মাণ হয়নি। নদীমাতৃক এই জেলায় ভাঙন রোধে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকায় প্রতিবছরই নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, স্কুল ও মাদ্রাসা।
 
নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা ভাঙন রোধ ও এলাকার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। প্রান্তিক ভোটারদের বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে উন্নয়ন তো দূরের কথা, অনেক সময় তাদের আর এলাকাতেই দেখা যায় না।
 
আর মাত্রক  এমাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন, করছেন নির্বাচনী জনসভা, চাইছেন ভোট। এ সময় প্রান্তিক অঞ্চলের ভোটাররা তুলে ধরছেন তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা। স্থানীয়দের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া কখনোই জেলার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে জেলার উন্নয়নে কাজ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার হলোখানা মণ্ডলপাড়া গ্রামের মোঃ ডিপজল (৫৫) ও মোঃ বাদল মিয়া (৪৫) বলেন, “ভোট আসে, ভোট যায়। অনেক প্রার্থী এসে বলেন, নির্বাচিত হলে বাংটুর ঘাট ব্রিজসহ এলাকার নানা উন্নয়ন করবেন। কিন্তু ভোটের পর তাদের আর দেখা পাওয়া যায় না। তাই আমাদের এলাকায় উন্নয়ন হয় না।”
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকার মোঃ লিটন মিয়া (৪৬) ও মোঃ মোমিন আলী (৩৫) বলেন, “নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়—কিন্তু এলাকার কোনো উন্নয়ন হয় না। রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নদীভাঙন প্রতিরোধ এখন জরুরি। নতুন যেই নির্বাচিত হোক না কেন, যদি প্রান্তিক ভোটারদের কথা শুনে সমন্বিতভাবে কাজ করেন, তাহলে একদিন আমরাও এগিয়ে যাব।”
 
কুড়িগ্রাম জেলার সিনিয়র সাংবাদিক শফি খান বলেন, “কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জেলা। এখানে যারা প্রার্থী হন, তারা জনগণের কাছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর যেভাবে জেলার উন্নয়ন হওয়া দরকার, তা বাস্তবে আর দেখা যায় না।”
 
 
 

 
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]