কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ৯টি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

আপলোড সময় : ১০-০১-২০২৬ ১১:২৯:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০১-২০২৬ ১১:২৯:৫৩ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পরিবেশবান্ধব ৯টি গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো কেটে গোপনে বিক্রি করেছেন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে থাকা ৯টি জীবিত মেহগনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কর্তন করা হয়। পরে এসব গাছ স্থানীয় এক পাইকারের কাছে বিক্রি করা হয়। কাটার পর লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ পিস গাছের গুঁড়ি সোনাহাট বাজারের পূর্ব পাশে নুরু মিয়ার ছ-মিলে মজুত রাখা হয়।
 
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক বাঁচার জন্য অতীত তারিখ দেখিয়ে (ব্যাক ডেটে) অনুমোদনহীন একটি রেজুলেশন তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের এক প্রাক্তন ছাত্র এডহক কমিটির সভাপতি থাকার সুবাদে তার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।
 
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক এর আগেও কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব গাছ একের পর এক কেটে ফেলেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ধারাবাহিকভাবে এসব গাছ কেটে আত্মসাৎ করে আসছেন।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির মুঠোফোনে করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার আলী সরেজমিনে তদন্ত করেন। তিনি সোনাহাট বাজারের পূর্ব পাশে নুরু মিয়ার ছ-মিলে গাছের গুঁড়িগুলো দেখতে পান এবং গুনে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
 
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক  মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, গাছ কেটেছি ঠিক, তবে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।
 
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ মইনুদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক আমার শিক্ষক হওয়ায় সরল বিশ্বাসে রেজুলেশনে স্বাক্ষর দিয়েছি। তিনি নিয়ম মেনে গাছ কেটেছেন কি না, তা আমার জানা নেই।
 
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার আলী বলেন, কাটা গাছের গুঁড়িগুলো ছ-মিলে রাখা আছে। বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা কমিটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
 
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
 
 
 
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]