মোঃ অপু খান চৌধুরী।।
সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। হঠাৎ করে বড় বড় গ্যাস কোম্পানিগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় লাইনের গ্যাসের কোনো সংযোগ না থাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবারই সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থালি গ্রাহকরা। কিছুদিন আগেও যেখানে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাস খুচরা পর্যায়ে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৬ শত টাকা থেকে ১৮ শত টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলার পর্যায় থেকে প্রতি সিলিন্ডার ১১৮০ থেকে ১২৫০ টাকায় কিনে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতেন। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি পর্যায়েই দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে তা সহনীয় দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে অতিরিক্ত শীতের কারণে সরবরাহকৃত লাইনের গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ফলে শহরের অনেক বাসাবাড়িতে লাইনের গ্যাসের পাশাপাশি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার শুরু হয়েছে। এতে সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। সুযোগ নিয়ে বড় কোম্পানি ও ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক খুচরা ব্যবসায়ী সরবরাহ নেই বলে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তবে অতিরিক্ত দামে ঠিকই কিছু ব্যবসায়ী সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলার ধান্যদৌল বাজারের তামিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রাসেল বলেন,আগে ১১৮০ থেকে ১২৫০ টাকার মধ্যে সিলিন্ডার কিনে ১৩০০ টাকা বিক্রি করতাম। এখন ডিলাররা সংকট দেখিয়ে অনেক বেশি দামে গ্যাস দিচ্ছে। ১৬০০ টাকায় বিক্রি করলে গ্রাহকদের সঙ্গে ঝামেলা হয়, তাই আপাতত গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন,আমাদেরকেও ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিলিন্ডার গ্যাস পাইকারি ব্যবসায়ী জানান,কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে সরবরাহ কম দেখিয়ে বেশি দামে গ্যাস দিচ্ছে। আমরাও বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করছি।
এ অবস্থায় দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
এ ব্যপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে চিঠি এসেছে, আমি গতকালও আমার এসিল্যান্ড কে পাঠিয়েছি বাজার মনিটরিং করার জন্য এবং একটি ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। আশা করি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।v