আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি মোঃ হারিসুল বারি রনিকে কুড়িগ্রাম-১ (সংসদীয় আসন–২৫) থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২৭ নম্বর আসামি হিসেবে হারিসুল বারি রনির নাম উল্লেখ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গুলি ও গুরুতর আহতের অভিযোগে হরিপদ মন্ডল (৪২), পিতা–পনির চন্দ্র মন্ডল, বাসা–ডি/২০, জমিদার বাড়ি, ডাকঘর–সাভার-১৩৪০, সাভার পৌরসভা, থানা–সাভার, জেলা–ঢাকা বাদী হয়ে ঢাকার সাভার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি সি.আর মামলা নং–৪০৭/২০২৫।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৪/১৪৭/১৪৮/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় মোট ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা, ২ নম্বর আসামি ওবায়দুল কাদের এবং ২৭ নম্বর আসামি হিসেবে হারিসুল বারি রনির নাম ও ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে—আদর্শপাড়া, পশ্চিম নাগেশ্বরী, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারপ্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনায় ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং পুলিশ সদস্যরা ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে বাদীর পুত্র শুভজিৎ মন্ডলসহ বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এ মামলা দায়ের করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী মোঃ হারিসুল বারি রনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে তিনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং বড় গাড়িবহর নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভোটার মোঃ আমিনুর রহমান, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ আব্দুল বারেক ও মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “তিনি আগে এলাকায় তেমন আসতেন না। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের এমপিদের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে এমপি প্রার্থী হওয়াকে আমরা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন হিসেবেই দেখছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা বলেন, “মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামির নির্বাচনে অংশগ্রহণ জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এটি ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনেরই অংশ।”
এ বিষয়ে মোঃ হারিসুল বারি রনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তখন নাগেশ্বরীতেই ছিলাম। কে বা কারা ষড়যন্ত্র করে আমার নামে ঢাকার সাভারে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় বিষয়টি উল্লেখ আছে। পুলিশ তদন্ত করে ওই মামলায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি।