জমি দখলকে কেন্দ্র করে ধ্বংস করা হলো ৩ হাজার চা গাছ

আপলোড সময় : ২৮-১২-২০২৫ ১২:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-১২-২০২৫ ১২:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
মোঃ আকতারু জ্জামান
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:


পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি দখলের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে একটি চা বাগানের প্রায় ৩ হাজার চা গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী মোশারেফ-আসমা দম্পতি এ ঘটনায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।


শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খয়ের বাগান সংলগ্ন চরতিস্তাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ২০১৮ সালে ধারদেনা ও ঋণ করে ৫০ শতাংশ জমিতে চা বাগান গড়ে তোলেন মোশারেফ-আসমা দম্পতি। এই বাগানই ছিল তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
প্রচণ্ড শীতের রাতে চারপাশে যখন ছিল নিস্তব্ধতা, তখন প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে বাগানের সব চা গাছ উপড়ে ফেলে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী দম্পতি।

এ ঘটনায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আছমা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এর আগেও একই জমি নিয়ে একাধিকবার হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযুক্ত আব্দুল জব্বার ও ফরিদুল ইসলামের অনুসারীরা ওই জমির কলা বাগান থেকে ৩০০টি কলার ছড়ি এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি চা পাতা কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মোশারেফ দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
পরবর্তীতে ৯ অক্টোবর সকালে অভিযুক্তরা আবারও চা বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০০টি চা গাছ উপড়ে ফেলে। বাধা দিতে গেলে মোশারেফ ও আছমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায়ও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই ঘটনার পর আব্দুল জব্বারের ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদ স্থগিত করে উপজেলা যুবদল।

জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গণি বসুনিয়া ও সাবেক উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল বাশার বসুনিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাগজপত্র যাচাই ও আমিন দিয়ে জমি মাপজোকের পর দেখা যায়, ফজল হকের জমি একই এলাকার মোফাজ্জল হোসেন ওরফে মোকা দখলে রেখেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির দোহাই দিয়ে আব্দুল জব্বার ফজল হকের পক্ষে অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আছমা আক্তার বলেন, “২০০৬ সাল থেকে আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। একাধিকবার মাপজোক হলেও আমাদের জমিতে ফজল হকের কোনো অংশ পাওয়া যায়নি। তারপরও আমাদের ওপর হামলা-মামলা দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ আমাদের চা বাগান ধ্বংস করে আমাদের পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]