কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির করে ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাত

আপলোড সময় : ২০-১২-২০২৫ ০৮:৩১:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-১২-২০২৫ ০৯:৪৫:০৩ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও ইনক্রিমেন্ট প্রদানের দাবিতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিংঝাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমান এ আবেদন করেন। তিনি জানান, বিধি অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী বয়স ১১ বছর । বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ খাইরুজ্জামান ও তার স্ত্রী মোছাঃ শাহাজাদী পারভীন প্রত্যয়নপত্রে এক শিক্ষার্থীর বয়স ১১ বছরের স্থলে ৮ বছর করে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি সরকারি নিয়ম মেনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দুই শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ বাধে। এছাড়া পূর্ব থেকে তাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে ঐ শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও কতিপয় অসাধু লোকের যোগসাজশে ২০২২ সালের ২৭ মার্চ একটি বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে ওই বছরের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসনের ১২ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কার্য অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এনিয়ে তদন্ত চলাকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। যা পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ২০২২ সালের ২৪ মে থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দীর্ঘ তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে পূণরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এসময় তিনি পূর্ণ বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হন।

আবেদনে আরও বলা হয়, সে সময় বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ওই দুই শিক্ষক ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের স্লিপ, মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১ লাখ ১ হাজার ৭২৮ টাকা ব্যয় করেন । খরচের বিপরীতে ভাউচার দাখিল করলেও বিল পরিশোধ করা হয়নি। বরং অভিযুক্ত শিক্ষক সোনালী ব্যাংক ভূরুঙ্গামারী শাখা থেকে ৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে ভ্যাট বাদে ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন।


ওই শিক্ষকদ্বয়ের একজন মাদক সেবনের ঘটনায় গ্রেফতার হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ছাড় পান।তার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক চারটি ইনক্রিমেন্ট দুই ধাপে স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একাধিকবার অভিযোগ পাঠানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং তার স্থগিত ইনক্রিমেন্ট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]