মোঃ আবদুল্লাহ আল মুকিম রাজু
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড়ে গত কয়েকদিন ধরে টানা ও ভারী বৃষ্টি চলেছে। শহরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের মানুষও এ বৃষ্টিতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা বিপন্ন। পাথর শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি, ভ্যান-রিকশা চালক থেকে শুরু করে দিনমজুররা-সবাই রোজগার না হলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
শহরের বানিয়াপট্টি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলায় কাদা-পানি আরও বেড়েছে। রিকশা ও অটোরিকশা চালকেরা বৃষ্টিতে ভিজে যাত্রী পরিবহন করছেন। স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ছাতা হাতে অথবা আবহাওয়ার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়ে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। অনেকে খেটে খাওয়া মানুষও ছাতা বা সামান্য আস্তানার সন্ধান করে হাটছেন, কেউ কেউ কাদায় পা ভিজিয়ে রোজগারের জন্য শ্রমে লেগে আছেন।
অটোচালক জাহাঙ্গীর জানান, “বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, মানুষ কম, ভাড়া কম। একদিন আয় না হলে সংসার টান পরে।” গ্রামীণ মানুষও একইভাবে কষ্টে আছেন। মাঠে, খেত-কলমে কাজ করতে গিয়ে বৃষ্টি তাদের পরিশ্রমকে দ্বিগুণ কঠিন করে তুলেছে। কৃষকেরা শস্য বীজতে সমস্যায়, দিনমজুররা মাটির কাজ করতে গিয়ে শ্রমের ফল মেলাতে পারছেন না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত চলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। শহর-গ্রামের মানুষই এখন বৃষ্টির মধ্যে কষ্টে দিন পার করছেন। খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন আর রোজগার -এ দুইয়ের মধ্যেই তাদের প্রতিদিনের।