৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: টাকার বিনিময় ধামাচাপার প্রক্রিয়া

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন

খান মোঃ রফিকুল ইসলাম 
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি গ্রামে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। দিনের পড় দিন দেশে বেড়েই চলছে খুন, ধষর্ন, ছিনতাই সহ নানাবিধ অপরাধ মূলক কাজ। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ছালিয়াকান্দি গ্রামের উত্তর পাড়ার রমিজ মিয়ার ছেলে বাবু একই গ্রামের কদম আলীর নাতনি ও মামুন মিয়ার ৫ বছরের শিশুকন্যাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে। এরপর শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


কিন্তু ঘটনার ৫ দিন পর, ২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) স্থানীয় মহিলা মেম্বার শামসুন্নাহার (বেবি মেম্বার) ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রামীণ সালিশ বসানো হয়। ধর্ষণের মতো জঘন্য ও অমানবিক অপরাধের পরও ঘটনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বদলে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে অপরাধ ঢাকতে উদ্যত হন।


সেই সালিশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সমাধান হিসেবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই সালিশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অসংখ্য নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রতিবাদ জানায়।


এলাকাবাসী বলেন, যদি টাকায় ধর্ষণের বিচার মিটে যায় তাহলে আমাদের সমাজে আর কোনো মেয়েশিশু নিরাপদ থাকবে না। এরা শুধু অপরাধ ঢাকছে না, ধর্ষককে উৎসাহ দিচ্ছে।



এলাকাবাসী আরও বলেন, এটা বিচার নয় এটা অন্যায়ের রক্ষাকবচ। এই বিচারকারীদেরও জবাবদিহি করতে হবে। ধর্ষণের মতো অপরাধকে অর্থের বিনিময়ে মিটিয়ে দেওয়া শুধু মানবতার প্রতি অবমাননাই নয়, রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আইন অনুযায়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই আইনের তোয়াক্কা না করে ধর্ষণকে লেনদেনের পণ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে।



এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পারা যায় বিগত ২০২০ সালে এই শিশু ধর্ষণকারীর পিতা রমিজ মিয়াকে পরকীয়া জনিত কারণে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল। তখন তাকে এলাকাবাসী মারধর করে চেয়ারম্যানের অফিসে হস্তান্তর করে। চেয়ারম্যান  দুইদিনের জন্য তাঁর ভাই রমজান মিয়ার জিম্মায়  দিয়েছিল। কিন্তু সেই ধর্ষণকারী রমিজ তার পরদিনই তার ভাই এবং কাহারো না কাহারো বুদ্বীতে এলাকা ছেড়ে তার পালিয়ে যায়। তখন থেকে দেড় বছর পর রমিজ মিয়া আবার এলাকায় ফিরে আসে।  তখন থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারই ফলস্বরুপ আজকে তার ছেলে এমন কাজ করতে সাহস পেলো।


এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তখন এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আজকে তার ছেলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার সাহস পেত না।


এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দৈনিক বাংলার আলো নিউজকে জানান, ২৯ অক্টোবর বুধবার ভিক্টিমের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এখোনো (অক্টোবর ৩০ সকাল ১১ টা) আসামী ধরা হয়নি, তবে আসামী  ধরার প্রক্রীয়া চলছে।

ওসি আইনের দৃস্টি তে আরো বলেন, ধর্ষণের মতো অপরাধে কারও প্রভাব বা অবস্থান বিবেচনা করা হবে না। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


এলাকাবাসী একবাক্যে দাবি তুলেছেন, এই ধর্ষণের বিচার আদালতে হোক, সালিশে নয়। শিশুটির জন্য আমরা ন্যায়বিচার চাই। এলাকাবাসীর আরো দাবী, ধর্ষণকারী বাবুকে এবং তাঁর বাবা রমিজকেও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। প্রয়োজনে এলাকাবাসী এবং সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।



 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]