শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নিরাপদ বিকল্প জীবিকা চাই: ক্ষুদ্র জেলেদের ন্যায্য সহায়তার দাবিতে সেমিনার

আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৫ ১০:০৮:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৫ ১০:০৮:৩৯ অপরাহ্ন

ভোলা প্রতিনিধি 


শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নিরাপদ বিকল্প জীবিকা চাই: ক্ষুদ্র জেলেদের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলায় কোস্ট ফাউন্ডেশন এর জেলা অফিসের হল রুমে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


এখানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে ইলিশ আহরণের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া, সহায়তা বিতরণে দেরি হওয়া, সহায়তা বিতরণের লুটপাট হওয়া, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিকল্প আয়ের অভাব, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়, ইকোট্যুরিজমের নামে জেলেপল্লীর জায়গা বেদখল, এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণের ফাঁদে পড়ে ক্ষুদ্র জেলে পরিবারের গভীর সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 


তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন ক্ষুদ্র জেলেদের জন্য, বিশেষ করে নারী ও যুবকদের, সময়মতো সহায়তা প্রদান ও আয়ের বিকল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্বচ্ছ উপায়ে নির্বাচিত উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা বণ্টন নিশ্চিত করা হয়।


 বক্তারা আরো বলেন, “ভোলায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষ সরাসরি মাছ ধরা, ১ লক্ষ লোক বাজারজাতকরণ, বিপণন ইত্যাদির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আমরা এটা বিশ্বাস করি, ইলিশের পুনরুৎপাদনের জন্য মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি, তবে এই নিষেধাজ্ঞা যেন ক্ষুধা বা অভুক্ত থাকার কারণে পরিণত না হয়। সরকারকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি চাল ও ৮ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে এবং অন্তত একজন সদস্যের জন্য বিকল্প আয়ভিত্তিক কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যুব মৎস্যজীবীদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ছোট নৌকায় (খাল ও নদীতে) বসবাসকারী মান্দা সম্প্রদায়কে জেলে কার্ড প্রদান ও নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানান।

কোস্ট ফাউন্ডেশন এর সহকারী পরিচালক রাশিদা বেগম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “দেশের ৫৬% ক্ষুদ্র জেলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকেন, এবং ৮৩% নিষেধাজ্ঞার শেষে ১–২ মাস পরে গিয়ে সহায়তা পান। এছাড়া ৮৭% জেলে কোনো আয়ভিত্তিক কার্যক্রম বা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নেই, এবং ৭০% অনানুষ্ঠানিক উচ্চসুদ ঋণের কারণে ফাঁদে পড়ে টিকে থাকার জন্য অবৈধভাবে মাছ ধরতে বাধ্য হন।” 


তিনি জানান, আর্থিক চাপের কারণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলে পরিবারে পারিবারিক সহিংসতা ৩০–৪০% বৃদ্ধি পায়। তিনি বে-আইনি জালের ব্যবহার বন্ধ ও জাল উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।


তিনি জানান, আর্থিক চাপের কারণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলে পরিবারে পারিবারিক সহিংসতা ৩০–৪০% বৃদ্ধি পায়। তিনি বে-আইনি জালের ব্যবহার বন্ধ ও জাল উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
সনৎ কুমার ভৌমিক, উপ-নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ফাউন্ডেশন, নারী ও যুবকদের জন্য পশুপালন, মৎস্যচাষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কর্মসূচির গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত জেলেদের নিয়ে ডাটাবেইস দ্রুত হালনাগাদ করা, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলে পরিবারগুলো ভালো থাকতে পারে। সংরক্ষণের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার সুরক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠাই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।


দৈনিক প্রথম আলো'র ভোলা প্রতিনিধি নেয়ামত উল্লাহ বলেন, “ক্ষুদ্র জেলে এবং কৃষকরাই জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখসারির সংগ্রামী জনগোষ্ঠী। ইলিশ আহরণের হ্রাসের সঙ্গে ধ্বংসাত্মক মাছ ধরা, অপরিকল্পিত খনন, এবং উপকূলীয় অভয়ারণ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্পর্ক রয়েছে। বিকল্প জীবিকার জন্য পৃথক উন্নয়ন তহবিল গঠনের দাবি এখন সময়ের দাবি। গত পাঁচ বছরে ইলিশ আহরণ ৩.৪% হ্রাস পেয়েছে। নারী ও যুবকদের আয়ভিত্তিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা গেলে পরিবারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সব বক্তারা সম্মিলিতভাবে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সময়মতো খাদ্য ও অর্থ বিতরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়ভিত্তিক কর্মসংস্থান, স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের সরকারি কর্মসূচিতে ন্যায্য অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোনো মৎস্যজীবী পরিবার ক্ষুধার মুখে না পড়ে। 


অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কোস্ট ফাউন্ডেশনের বোট সদস্য মোঃ মোবাস্বের উল্লাহ চৌধুরী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের CPO মোঃ ফিরুজ হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ভোলা জেলা প্রতিনিধি এডভোকেট নজরুল হক অনু, সিনিয়র সাংবাদিক মোকাম্মেল হক মিলন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মেহেদী হাসান ভূইয়া, দৈনিক খবরপত্র পত্রিকার ভোলা জেলা প্রতিনিধি আশিকুর রহমান শান্ত, এখন টিভি'র ভোলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ আহমেদ, কোস্ট ফাউন্ডেশন এর ফানান্স এন্ড এডমিন মোঃ ইব্রাহিম, প্রোগ্রাম অফিসার, (GCA প্রকল্প) মোঃ বাবুল হোসেন সহ প্রমুখ

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]