সম্প্রতি দেশের বহুল আলোচিত- সমালোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি লন্ডন প্রবাসী মোঃ সিদ্দিক ওরফে রাসেলকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছে। স্বামীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন তনি। এদিকে সিদ্দিকও নিজের ফেসবুকে দুজনের ছবি প্রকাশ করে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তনি মূলত চেয়েছিলেন দুই বছর গোপন রাখতে তার আগে বিয়ের খবর প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন আরেক নারী উদ্যোক্তা মৌ সুলতানা। তার সঙ্গে সকল বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলার আলোর ক্রাইম রিপোর্টার, আকাশ নিবির।
মৌ সুলতানা তনির উপর এতো রাগ কেন?
আমি নিজেও একজন নারী উদ্যোক্তা। রোবাইয়াত ফাতিমা তনি তিনিও একজন জনপ্রিয় নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার। তাকে দেখে মূলত নিজেকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরে তা পারিনি। সে পারছেন আমরা কেন পারছি না। তখন নিজে নিজে এক ধরণের অনুসন্ধানে নামি। পরে দেখি ভয়াভয় অবস্থা।
বিয়ে আগে স্বীকার না করে পরে কেন করলেন?
আমার ইনবক্সে ১৫০টির মতো স্ক্রীণশর্ট আছে। এরমধ্যে ১০টির মতো আমরা নারী উদ্যোক্তা দেখিয়েছি। তবে প্রথম স্ক্রীণশর্ট প্রকাশ করার পর আমাকে লাইভে এসে অনেক গালাগালী করেছেন তনি। পরে মামলার ভয় দেখিয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে ২০ লক্ষ টাকার অফার করেছেন পোস্ট ডিলিট করার জন্য। তার কথা যখন শুনিনি তখন বিভিন্ন হ্যাকার দিয়ে আমার পোস্ট ডিলিট করান এই তনি। তাদের ইচ্ছে ছিল আরও ২ বছর এই রাসেল চোরা সিদ্দিকের সাথে বিয়ে গোপন রাখা।
তার মানে বলতে চাচ্ছেন বিয়ের আগেও তনি রাসেল এর প্রেম ছিল ২ বছর?
অবশ্যই। ইতিমধ্যে রাসেলের বোনের সাথে একটা ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেটি ছিল অবশ্য ২০১৯ সালে। তার মানে তাদের প্রেম ২০১৯ সাল থেকে। আমেরিকান অনলাইনে তাদের বিয়ের বিষয়ে আমার কাছে অনেক গোপন তথ্য আছে। এখন বলছে ৭ মাস আগে বিয়ে করেছে। তাহলে আগে কেন স্বীকার করলো না বিয়ের কথা। বরং আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রকমের হুমকি দিয়েছেন এবং আমাকে মেরে ফেলার কথা বলছেন। বিয়ে করলে আগেই স্বীকার করতেন। এখন এতো কথা কেন? আমরা কি ঢাকা শহরে ভেসে আসছি। তিনি কথায় কথায় মানুষকে মামলার ভয় দেখায়। ভয় কারা দেখায়? যারা ভয় পায় তারা ভয় দেখায়। প্রশাসন চাইলে অনেক কিছু আমি শেয়ার করবো। সবে ২০% দেখিয়েছি আরও ৮০% বাকী আমার কাছে আছে।
আপনি কথায় কথায় তনি'র নতুন স্বামী মোঃ সিদ্দিককে রাসেল চোরা বলেন কেন, আসলে তিনি কে?
মোঃ সিদ্দিককের আসল নাম রাসেল। এই সিদ্দিক রাসেল একজন ব্যবসায়ীর ইমেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড চুরি করার চেষ্টা করা গ্যাং। সিদ্দিক রাসেল সদস্যদের মোট ১৯ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যেখানে তনি'র স্বামী মোঃ সিদ্দিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও ইসলাম এবং রফিককে দুই বছর ছয় মাস এবং মুত্তিয়ানকে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পপলারের অ্যাবারফেল্ডি স্ট্রিটের ৫১ বছর বয়সী ফয়জুল ইসলাম; দাগেনহ্যামের চ্যান্সেলর ওয়েয়ের ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ সিদ্দিক; পূর্ব হ্যামের হকলি অ্যাভিনিউয়ের মোহাম্মদ রফিক, ৩৪ বছর বয়সী এবং মেহরুফ মুত্তিয়ান, ৩৫ বছর বয়সী উভয়কেই গত মাসে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
বলতে চাচ্ছেন শাহাদাৎ হোসেন স্বামী থাকা অবস্থায় লন্ডন প্রবাসী মোঃ সিদ্দিকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক ছিল?
অবশ্যই তনি'র সাবেক স্বামী সরকারী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন স্বামী থাকা অবস্থায় লন্ডন প্রবাসী মোঃ সিদ্দিকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। এছাড়াও তার সাথে লন্ডনে গেল ২ বছর আগেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করার কথা ছিল তাদের। পরে কাজের চাপে তা আর হয়ে উঠেনি। তনি মূলত তার ছেলে মেয়েকে লন্ডন প্রবাসী আর ব্যাংকের মোটা অংকের টাকা পরিশোষ করতে সিদ্দিককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন তনি। তনির এর আগেও একাধিক বিয়ে হয়েছিল। তনি মূলত কিশোরগঞ্জের মেয়ে। উত্তরায় থাকা কালিন বিভিন্ন হোটেল বারে নাচতেন। সেই সুবাধে সাবেক সরকারী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন পরিচয় হয় এবং তার টাকা পয়সার লোভে তাকে বিয়ে করেন।
ব্যাংক লোন থাকলে আপনি বলছেন ৩শ কোটি কালাে টাকা সাদা করে দোকান চালায় কিভাবে?
শোনেন এগুলো টাকা সাবেক রাষ্ট্রপতির ছোট ছেলে তুহিন নামের একজনের সাথে পরকীয়া থাকা অবস্থায়। এগুলো শো-রুম হলো মানুষকে লোক দেখানো মাত্র। আর আমার জানা মতে তনির সাবেক স্বামী সরকারী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন স্বামী ছিলেন একজন সরকারী সাবেক সচিব। তুহিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে হয়তোগাড়ী বাড়ী আর বিলাসী জীবন যাপন করে তনি মূলত আওয়ামী সরকারের দোসরদের সাথে হাত মিলিয়ে কালো টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। তার মূল কাজ ছিল বিভিন্ন বয়সের নারী দিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। এসব কালো টাকা সাদা করতেই লন্ডন প্রবাসী আরেক প্রতারক মোঃ সিদ্দিক ওরফে রাসেলের সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেন।
তনি'র ভক্তরা রীতিমতো আপনাকে গালী দিচ্ছেন, কিন্তু কেন?
শোনেন তনি'র কোন ভক্ত নাই। সব হলো পেইড দালাল। আর এগুলো হলো নায়িকা অপু বিশ্বাসের দালাল আগে থেকে আমি নায়িকা বুবলির পক্ষে কথা বলি তাই হয়তো। আসলে তনি'র কোন ভক্ত নাই। সব ফাঁকা আওয়াজ। আওয়ামী কিছু এমপি, মন্ত্রীর সাথে রাত কাটিয়ে এসব করতেন। এছাড়াও আমি নিজে ডিবির একজন এডিসির সাথে গুলশানে কফি খেতে দেখেছি। তার সাথেও তার পরকীয়া ছিল। তনি'র খুঁজলে ৪০-৫০ টির শুধু প্রেমিক বের করতে পারবো।
আপনার আসলে চাওয়া কি? তনিকে নিয়ে রীতিমতো পড়ে আছেন কেন?
আমি আগেও বলেছি একজন নারী উদ্যোক্তা। আমাদের নারীদের ইমোশনাল নিয়ে খেলছেন এই তনি। নিজে বহু বিবাহ আর পরকীয়াকে প্রচার করছেন। যা সকল নারী সমাজের জন্য কলংক। জাস্ট আমি তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি। তার সাথে আমার কোন শত্রুতা নাই।
শুনেছি আপনার নামে গুলশান-বনানী থানায় মামলা করেছে, দেশে আসলে আপনাকে ধরবে!
শোনেন ঐ মহিলার শুধু ফাঁপড়বাজী। আপনি একজন সাংবাদিক, আপনাকেও কিনে নিয়ে বাসার দারোয়ান বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন বলে ভুলে বলে ফেলেছন। আসলে কি তা পারবে? পারবে না। বুদ্ধিমানের কাজ হল সাংবাদিকদের সাথে তর্কে না জড়িয়ে চুপ থাকা। এই ইন্টারভিউ মানুষ পড়লে কি তার সম্মান থাকবে নাকি বাড়বে?
উল্টো আমাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন মৌ সুলতানা?
আপনার সাংবাদিকতা আমার ভাল লাগে। বর্ষা চৌধুরী আমার নামে হুদাই কোটি টাকার উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিল। আমি উল্টো ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ পাঠিয়েছি। বর্ষা চৌধুরী একদম চুপ হয়ে গেছে। তনি আমার নামে মামলা করছে আমিও তার নামে মামলা করবো। স্বাধীন দেশে বাস করে এরকম তনিকে ভয় পাবার কিছু নাই। অভিযান চলছে। সামনে আরও অভিযান চলবে... প্রশ্ন ছুড়ে দিবার কিছু নাই। চায়না আছি ব্যবসার কাজে। দেশে ফিরে সব কিছুর মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।