এম এ কুদ্দুছ, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: চলমান শিক্ষক- কর্মচারী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বেসরকারি স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে কটিয়াদী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উক্ত মাদ্রাসার ইংরেজী প্রভাষক কাজল মিয়াকে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের নির্যাতনে রক্তাক্ত লাঞ্চিত করায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এতে ফেকামারা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও চারিপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার সহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তাঁরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার দ্রুত বাস্তবায়নসহ নানা দাবি তুলেছেন কর্মবিরতিতে যাওয়া শিক্ষকেরা।
তাদের অভিযোগ, বহু দিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের হামলা ও নির্যাতন নিঃসন্দেহে শিক্ষা সমাজের প্রতি আঘাত বলে মনে করছেন তারা।
ফেকামারা বালিকা মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আব্দুল খালেক বলেন, ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা ও ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা অবিলম্বে অনুমোদন দিতে হবে। আরেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, আমরা আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। এই দাবিগুলো কখনো বিলাসিতা ছিল না, বরং জীবনের অনিবার্য দাবি। তিনি আরও বলেন, যেদিন পুলিশের নির্যাতন হয়, সে নির্যাতন শুধু দাবি দমন নয়, আমাদের মর্যাদার বিরুদ্ধে আঘাত।
শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষক-সমাজ এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে অনেকে সাইবার ও সশরীরে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারকদের প্রতি দ্রুত আলোচনায় যেতে আহŸান জানানো হচ্ছে। ফেকামারা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মেটানো না হলে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি চলতেই থাকবে। তারা প্রস্তুত আরও কঠোর আন্দোলনের জন্য। শুধু দাবি গ্রহণ করলেই হবে না, তার বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।