নিউজ ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ব্যাপারে আপনার, আপনাদের বা বিএনপির অবস্থানটা কী জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমি ১৭ বছর যাবত প্রবাস জীবনে আছি। তথাকথিত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় যেই শারীরিক নির্যাতন আমার ওপর হয়েছিল, তারপরে চিকিৎসার জন্য আমি এই দেশে আসি।
তিনি বলেন, আমি যখন এখানে আসি, আমার ছোট ভাইকে আমি রেখে এসেছিলাম। আমার সুস্থ মাকে আমি রেখে এসেছিলাম। একটি ঘর রেখে এসেছিলাম। যে ঘরে আমি এবং আমার ছোট ভাই বড় হয়েছি, যেই ঘরে আমার বাবার স্মৃতি ছিল, যে ঘরে আমাদের দুই ভাইয়ের সন্তানরা জন্মগ্রহণ করেছিল। যে ঘরে আমার মায়ের বহু স্মৃতি ছিল। সেই স্মৃতিগুলোকে ভেঙে-চুড়ে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে ভাইকে আমি রেখে এসেছিলাম সেই ভাই এখন আর নেই। যে সুস্থ মাকে রেখে এসেছিলাম, সেই সুস্থ মা এখন সুস্থ নেই। শুধু অসুস্থই নন, উনার ওপরে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে, বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার পরিবারের যে কাহিনী আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। এটিকে আপনারা কাহিনী বলুন, বা সংগ্রাম বলুন-যেটাই বলুন না কেন, এটি শুধু আমার কাহিনী না, বা আমার পরিবারের কাহিনী না। এ রকম কাহিনী বাংলাদেশের শত না, হাজার হাজার পরিবারের।
যে পরিবারের বাবা, যে পরিবারের ভাই, যে পরিবারের স্বামী তার ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় হাসপাতালের বারান্দায় মারা গেছে, তা না হলে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় জেলের ভেতরে মারা গেছে, সহায়-সম্পত্তি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে-এই সব অন্যায়, এই সব হত্যা, এই সব নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী, যারা এসবের হুকুম দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার হতে হবে।
এটি প্রতিশোধের কোনো বিষয় নয়। এটি ন্যায়ের কথা। এটি আইনের কথা। অন্যায় হলে তার বিচার হতে হয়। কার সম্পর্কে কী মনোভাব সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, যোগ করেন তিনি। এখানে একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে যে, যারা অপরাধী তাদের বিচার হবে। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারা-না পারার প্রশ্নে বিএনপিরও অনেক নেতা অনেক সময় বলেছেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নন। এখন নির্বাচনও সামনে আসছে। ফলে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কি পারবে না সে ধরনের একটা প্রশ্নও আসছে। সেই জায়গায় বিএনপির অবস্থানটা কী হতে পারে-জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, দল হিসেবে তারা যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের আইন সিদ্ধান্ত নেবে।
আদালতের বিষয়টি মনে করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল হিসেবে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে তাই হবে। সোজা কথায় অন্যায়কারীর বিচার হতে হবে। সেটি ব্যক্তি হোক, সেটি দলই হোক। যারা জুলুম করেছে, তাদের তো বিচার হতে হবে। সেটি ব্যক্তিও হতে পারে। সেটি দলও হতে পারে।
আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের রাজনীতিতে থাকা উচিত কি না-প্রশ্নের জবাবে ব্যক্তিগত মত জানিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আপনার কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এবং বিভিন্ন সময় বলিও, আমরা বিএনপি যারা করি, আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করতে চাই, যে দলের ব্যক্তিরা বা যে দল মানুষ হত্যা করে, মানুষ গুম করে, মানুষ খুন করে, দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে, জনগণ তাদেরকে সমর্থন করতে পারে বলে আমি মনে করি না।
জনগণ যদি সমর্থন না করে, কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক সংগঠনকে তাদের টিকে থাকার তো কোনো কারণ আমি দেখি না। যেহেতু জনগণের শক্তিতে আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সিদ্ধান্তে আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সিদ্ধান্তের ওপরে আমরা আস্থা রাখতে চাই। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় বিচারক আমি মনে করি জনগণ, যোগ করেন তিনি।