মাধবপুরের নবনিযুক্ত এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৫ ০৯:২৮:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৫ ০৯:২৮:৪৪ অপরাহ্ন

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:   

চাঁদপুর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় বদলি হয়ে আসা প্রকৌশলী রেজাউন নবী এবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এসে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে তাকে চাঁদপুর থেকে বদলি করা হয়েছিল।

মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি অফিস ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী রেজাউন নবী কমিশন ছাড়া কোনো ঠিকাদারকে বিল দেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, "উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রেজাউন নবী আমাকে সরাসরি বলেছেন যে, কমিশন না দিলে কোনো বিল এখান থেকে যাবে না। আমি কমিশন ছাড়া বিল দেইনা, এটা আমার পূর্বের স্টেশনেরও ইতিহাস আছে।

পারলে এক্সেন সাহেবকে বলেন।," কমিশন দিতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদারদের নানাবিধ হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের বেতন উঠিয়ে হলেও যেন ঠিকাদার বিলের কমিশন প্রদান করেন এমন অবৈধ আবদারও তিনি করে থাকেন, যার একটি অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

অভিযোগ আছে যে, ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে তার পছন্দের ঠিকাদারদের বিল প্রদানের ব্যবস্থা করেন। ইমারত/স্থাপনা নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও উপজেলা এলজিইডির অবসরপ্রাপ্ত একাউন্টেন্টের মাধ্যমে ফাইল প্রতি বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা করে নিয়ে নিয়মবহির্ভূত ভাবে নকশা অনুমোদন করিয়ে থাকেন। এসব অনুমোদিত নকশার একটি কপি উপজেলা পরিষদের সচিবের নিকট সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও, সচিব জানান তার কাছে প্রকৌশলী রেজাউন নবী কোনো নকশা বা ফাইল দেননি।

এছাড়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও আদাঐর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’-এর যাবতীয় কাজের দায়দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রকৌশলী রেজাউন নবী এই প্রতিষ্ঠানের বরুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুমুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন হস্তান্তর পত্রে তদারকি কর্মকর্তাকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট হস্তান্তর পত্র প্রেরণ করেন। প্রকৌশলী রেজাউন নবীর বিরুদ্ধে নিজের অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অশালীন আচরণের অভিযোগও উঠেছে।

গত বছরের ৭ আগস্ট মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঢাকা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. রেজাউন নবী তাদের সাথে এবং ঠিকাদারদের সাথে কমিশন নিয়ে খারাপ আচরণ করে আসছেন।

তিনি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলীর হুমকি দিয়ে তার ব্যক্তিগত সকল কাজ হাসিল করেন, এবং অফিস চলাকালীন সময়ে সকলের সামনে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ও গায়ে হাত তোলার হুমকি দেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কারিগরি কর্মকর্তা/কর্মচারী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনকালে ত্রুটি জানালে ঠিকাদার কর্তৃক ত্রুটি সংশোধন না করা সত্ত্বেও ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে একক সিদ্ধান্তে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য, সাবেক অবসরপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষক সুলতান আহমেদ গত বছারের ১২ জুনপি.আর.এল চলাকালীন থেকে শুরু করে নিয়মিত দেড় বছর যাবত অফিস করে যাচ্ছেন এবং অফিসের স্টাফদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক তৈরি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকৌশলী অবসরপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষক সুলতান আহমেদকে দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অবৈধ লেনদেন তথা কমিশন বাণিজ্য করিয়ে যাচ্ছেন। তার এ ধরনের আচরণে অফিস স্টাফরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক কাজ কর্মে মনোনিবেশ করতে অসুবিধা হচ্ছে প্রকৌশলী।

রেজাউন নবী পূর্বে চাঁদপুর উপজেলা ও সন্দ্বীপ উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী (আদা.) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে সকল স্টাফ একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকালে গত বছরের ৮ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নাম্বার ওয়ার্ডের যুবদল নেতা রনি ও কবিরের সামনে তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তাকে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় বদলি করা হয়।

এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রেজাউন নবী জানান, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]