মেট্রোরেলে বাড়ছে ১০ ট্রিপ, চলবে রাত ১০টার পরও

আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৫ ০২:২৪:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৫ ০২:২৪:৪০ অপরাহ্ন
 
ফাহাদ মোল্লা
 
রাজধানীবাসীর জন্য সুখবর—এখন থেকে মেট্রোরেলে আরও ১০ ট্রিপ যুক্ত হচ্ছে। নতুন সূচি অনুযায়ী রাত ১০টার পরও চলবে বিদ্যুৎচালিত এই দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা। যাত্রী চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই উদ্যোগ নিয়েছে।
 
প্রতিদিন গড়ে তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন। বিশেষ দিনে এই সংখ্যা বেড়ে চার লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অথচ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ঘণ্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহন করা। প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীতে সেবা দিয়ে আসা এই বাহন দিনে প্রায় ২০০ বার উত্তরা-মতিঝিল-উত্তরা রুটে যাতায়াত করছে। কিন্তু যাত্রী চাহিদা এত বেশি যে, একই সময়ে বেশি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। এজন্যই অতিরিক্ত ১০ ট্রিপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
 
ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, বর্তমানে মেট্রোরেলের রয়েছে ৬ কোচের ২৪ সেট ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ যাত্রী একসঙ্গে চলাচল করতে পারেন। নতুন ১০ ট্রিপ চালু হলে প্রতিদিন আরও ২৩ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে প্রতিটি সেটকে ৮ কোচে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত তা সম্ভব নয়।
 
এর তিনটি বড় কারণ উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ—
১. প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত দুটি কোচ দাঁড়ানোর মতো জায়গা থাকলেও সেখানে স্ক্রিন ডোর (PSD) বসানো হয়নি।
২. অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করতে গেলে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
৩. বাড়তি কোচ চালাতে আরও বিদ্যুৎ লাগবে, যা বিদ্যমান ওভারহেড ক্যাটেনারি লোড নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
 
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, ট্রিপ বাড়ানোর চেয়ে কোচ বাড়ানো বেশি কার্যকর হতো। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মেট্রোতে ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। অথচ যাত্রীচাহিদার সঙ্গে সরবরাহ মেলানো যাচ্ছে না। এখন কোচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা টেকনিক্যাল অজুহাত সামনে আনা দুঃখজনক। প্রকল্পের শুরু থেকেই ৮ কোচের ভিত্তিতে ডিজাইন করা হয়েছিল। এমনকি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণেও সে অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে। কাজেই আজকের সমস্যা আগেই সমাধান করা যেত।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘বেশি ট্রিপ মানেই বেশি বিদ্যুৎ খরচ। অথচ মেট্রো একটি অত্যন্ত এনার্জি-হাঙরি পরিবহন ব্যবস্থা। মাত্র এক মিনিট হেডওয়ে কমালেই বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’
 
ডিএমটিসিএলের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় সুইপিং ট্রেন থেকেই প্রথম ট্রিপ শুরু হবে। তবে এতে শুধুমাত্র এমআরটি পাস বা র‌্যাপিড পাসধারীরা উঠতে পারবেন। এরপর সকাল ৭টায় উত্তরা থেকে দ্বিতীয় ট্রিপ ছাড়বে। মতিঝিল থেকে ছাড়বে সকাল ৭টা ১০ এবং ৭টা ২০ মিনিটে ট্রেন।
 
রাতে নতুন সূচি অনুযায়ী আরও ছয়টি ট্রেন যুক্ত হবে। বর্তমানে উত্তরা থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টায় এবং মতিঝিল থেকে ৯টা ৪০ মিনিটে। নতুন সূচিতে উত্তরা থেকে ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ১০, ৯টা ২০ ও ৯টা ৩০ মিনিটে। মতিঝিল থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ৫০, ১০টা ও ১০টা ১০ মিনিটে। ফলে যাত্রীরা রাত ১০টার পরও মেট্রো সেবা পাবেন।
 
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন বলেন, ‘এটি এখন স্টাডি পর্যায়ে আছে। স্টাডি শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে। আমরা চেষ্টা করছি।’
 
যাত্রী চাহিদা মেটানো, খরচ সামাল দেওয়া ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সমন্বয়েই এখন মেট্রোরেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ভর করছে। তবে অতিরিক্ত ১০ ট্রিপ চালু হলে প্রতিদিন আরও কয়েক হাজার যাত্রী এই দ্রুতগতির আধুনিক বাহন ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]