নিজস্ব প্রতিবেদক
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২০২১সেশনের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আজ ১৬ ই সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ৩.৫ বছর সময়ের মধ্যে অফিশিয়াল ভাবে স্নাতক (সম্মান) শেষ হয়েছে এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবন যে এত দ্রুত পেরিয়ে যাবে, তা কখনো ভাবিনি। মাত্র ৩ বছর ৫ মাসে স্নাতক শেষ করা ছিল চ্যালেঞ্জের, আবার গর্বেরও। প্রতিদিন ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট- সবকিছু যেন এক দৌড়ের মতো ছিল।
ক্লান্তি আসত, কিন্তু সহপাঠীদের একাত্মতা আর শিক্ষকদের উৎসাহ আমাদের এগিয়ে নিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমরা জীবনের অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এই অর্জন শুধু ডিগ্রি শেষ করার নয়, বরং সময়কে জয় করার এক স্মৃতি, যা সারা জীবন আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে।"
আরেক শিক্ষার্থী স্বপন মিয়া বলেন, "বাংলাদেশে যেখানে সেশনজট স্নাতক পড়াশোনাকে দীর্ঘ করে তোলে, সেখানে আমরা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাত্র ৩ বছর ৫ মাসে স্নাতক সম্পন্ন করেছি। এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের অর্জন।
যাত্রাপথটি সহজ ছিল না। ঘনঘন পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর চাপ সামলাতে হয়েছে, প্রতিদিন। তবে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও সহপাঠীদের সহযোগিতা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে।
আজ আমরা বুঝতে পারি- পরিশ্রম ও সংকল্প থাকলে সময়কে জয় করা যায়। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মজীবনে আমাদের আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হবে।"
২৮ শে মার্চ ২০২২ ভর্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা বিভাগে তাদের প্রথম একাডেমিক যাত্রা শুরু হয় এর পূর্বে বিভাগটির নাম ছিল রবীন্দ্র অধ্যয়ন। রবীন্দ্র অধ্যয়ন থেকে বাংলায় পরিবর্তন হওয়ার পেছনে বিভাগটির শিক্ষকদের অবদান অনেক,এছাড়া ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীরাই বছর ভিত্তিক পাঠদানের শেষ ব্যাচ এবং তারপরেই সেমিস্টার ভিত্তিক পাঠদান শুরু হয়।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো.জাবেদ ইকবাল বলেন, "আজ মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন হলো। ওরা ছিল একটা ইতিহাসের অংশ, কারণ বছরভিত্তিক পাঠদানের যে ব্যবস্থা নিয়ে বাংলা বিভাগ যাত্রা আরম্ভ করেছিল, ওরা ছিল সেই ব্যবস্থার শেষ ব্যাচ। ওদের অধীত বিদ্যা দেশ ও জাতি গঠনে সহায়ক হোক। ওদের জীবন মঙ্গল ও কল্যাণময় হোক। পরম করুণাময় ওদের সহায় হোন।"