ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি তাহেরী রোহিঙ্গা নই, আমিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৯-০৬ ১০:৫৪:০২
আমি তাহেরী রোহিঙ্গা নই, আমিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান “আমি তাহেরী রোহিঙ্গা নই, আমিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:


জসনে জুলুসের আয়োজন, এর ধর্মীয় বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্বওমি উলামায়ে কেরামের সঙ্গে ইলমি মোযাকারার আহ্বান জানিয়েছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একই সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী আলেমদের পরিচয় ও অবস্থান প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী


বলেন, গত ২৬ আগস্ট তিনি জসনে জুলুস নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্বওমি উলামায়ে কেরামের সঙ্গে ইলমি মোযাকারার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে আগ্রহ ও অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। তাহেরীর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় বসার বিষয়ে ওবায়দুল্লাহ হোসাইন বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। প্রথমে জামেয়া ইউনুসিয়া মাদরাসার অনুমতি সাপেক্ষে আলোচনায় বসার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে এককভাবে আলোচনায় বসার কথা বলা হলেও পরে জামেয়া ইউনুসিয়া, দারুল আরকাম ও ভাদুঘর মাদরাসাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ১৪-১৫ জন আলেমকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন


তুলে তাহেরী বলেন, একজন আলেমের সঙ্গে ইলমি আলোচনা হলে বিষয়টি স্পষ্ট ও নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য, আলোচনায় কারা অংশ নেবেন এবং কী বিষয়ে আলোচনা হবে—তা আগে থেকেই পরিষ্কার থাকা উচিত। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জসনে জুলুসের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরাসরি ইলমি আলোচনা করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ট্রাক-পিকআপ ব্যবহার, ঢোল-বাদ্য বাজানো এবং বিদেশ থেকে লোক এনে জুলুস করার মতো বিষয়গুলোকে আলোচনার প্রসঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তাহেরীর দাবি, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে মূল মোযাকারার বিষয়বস্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, জসনে জুলুস নিয়ে ইলমি মোযাকারার মূল বিষয়বস্তু তিনি ২৬ আগস্ট তার টাইমলাইনে প্রকাশ করেছেন এবং আলোচনায় বসার আগে সংশ্লিষ্টদের তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ‘আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গেও আপত্তি জানান তাহেরী। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়; এখানকার প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় মত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।


তাহেরী বলেন, “আমি তাহেরী রোহিঙ্গা নই, আমিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান।” তার দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম-উলামার মধ্যে বিভাজন দূর করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি ইলমি মোযাকারার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; তবে ইসলামী ঐতিহ্যে ইলমি মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনা, দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্ব রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিভাজনের পরিবর্তে কুরআন-সুন্নাহ ও স্বীকৃত ইলমি নীতির আলোকে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা উচিত। সবশেষে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ১৪-১৫ জন আলেমের নাম ও

ঠিকানা প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তাহেরী বলেন, তিনি আলোচনার বিষয়ে অনড় রয়েছেন এবং একটি রহমতপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইলমি মোযাকারার প্রত্যাশা করেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ